ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হজযাত্রীরা

বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রীকোনো ধরনের ফ্লাইট বাতিল বা বড় বড় শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই ২০২৬ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার হজযাত্রীদের সেবার মান ছিল অত্যন্ত উন্নত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের মাঝে বিশেষ হজ কেয়ার প্যাক বিতরণ করা হয়।

বিমান জানায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত পরিচালিত ৯৮টি প্রি-হজ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮৬৮০ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের হজযাত্রীসহ মোট ৭৬১৯৭ জন যাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য সেবা সম্পন্ন করা হয়।অন্যদিকে, ৩০ মে থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত পোস্ট-হজ কার্যক্রমে ১০৪টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট এবং ১২টি নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে সর্বমোট ৩৪৪৬৪ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের ফুল ও পবিত্র জমজমের পানি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এবারের হজে মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ, ‘লাব্বাইক’ ডিজিটাল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং, হজ প্রিপেইড কার্ড এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যাত্রা ছিল অনেক সহজ ও নিরাপদ। পুরো মৌসুমে কোনো ফ্লাইট বাতিল না হওয়ায় দীর্ঘ ফ্লাইট বিলম্ব বা মালপত্র জটের মতো পরিচিত সমস্যাগুলো এবার দেখা যায়নি।

২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে বড় সাফল্য দেখিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো হজ মৌসুমে একটি ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়নি। পাশাপাশি বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় বা লাগেজ-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলাও ঘটেনি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-হজ ও পোস্ট-হজ মিলিয়ে মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি প্রি-হজ এবং ১১৬টি পোস্ট-হজ (১০৪টি বিশেষ ও ১২টি নিয়মিত) ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজারো হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরব নেওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সহজ করতে এবার কয়েকটি ডিজিটাল ও স্মার্ট সেবা চালু করা হয়। এর মধ্যে ছিল ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং সিস্টেম, হজ প্রিপেইড কার্ড এবং ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সাপোর্ট। এসব উদ্যোগের ফলে যাত্রীরা লাগেজের অবস্থান জানতে পেরেছেন, আর্থিক লেনদেন সহজে করতে পেরেছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও দ্রুত পেয়েছেন।

এবারও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ কার্যকর থাকায় বাংলাদেশি হজযাত্রীরা ঢাকা থেকেই সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পান। ফলে জেদ্দা বা মদিনায় পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় ইমিগ্রেশনে অপেক্ষা করতে হয়নি এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

হজ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের পবিত্র জমজমের পানি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়, যা অনেক হজযাত্রীর কাছে আনন্দঘন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহ, স্বাস্থ্যসেবা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৭৬ হাজারের বেশি হজযাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা সফলভাবে পরিচালনা করেছে। এতে বোর্ডিং, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং যাত্রী সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্নত পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত তদারকির ফলে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও হজযাত্রীদের আরও উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

Update Time : ০৫:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রীকোনো ধরনের ফ্লাইট বাতিল বা বড় বড় শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই ২০২৬ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার হজযাত্রীদের সেবার মান ছিল অত্যন্ত উন্নত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের মাঝে বিশেষ হজ কেয়ার প্যাক বিতরণ করা হয়।

বিমান জানায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত পরিচালিত ৯৮টি প্রি-হজ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮৬৮০ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের হজযাত্রীসহ মোট ৭৬১৯৭ জন যাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য সেবা সম্পন্ন করা হয়।অন্যদিকে, ৩০ মে থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত পোস্ট-হজ কার্যক্রমে ১০৪টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট এবং ১২টি নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে সর্বমোট ৩৪৪৬৪ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের ফুল ও পবিত্র জমজমের পানি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

আরও পড়ুন  সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি: ইসলামের ন্যায়বিচারের শিক্ষা

এবারের হজে মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ, ‘লাব্বাইক’ ডিজিটাল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং, হজ প্রিপেইড কার্ড এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যাত্রা ছিল অনেক সহজ ও নিরাপদ। পুরো মৌসুমে কোনো ফ্লাইট বাতিল না হওয়ায় দীর্ঘ ফ্লাইট বিলম্ব বা মালপত্র জটের মতো পরিচিত সমস্যাগুলো এবার দেখা যায়নি।

২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে বড় সাফল্য দেখিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো হজ মৌসুমে একটি ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়নি। পাশাপাশি বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় বা লাগেজ-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলাও ঘটেনি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫২ হাজার হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-হজ ও পোস্ট-হজ মিলিয়ে মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি প্রি-হজ এবং ১১৬টি পোস্ট-হজ (১০৪টি বিশেষ ও ১২টি নিয়মিত) ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজারো হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরব নেওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সহজ করতে এবার কয়েকটি ডিজিটাল ও স্মার্ট সেবা চালু করা হয়। এর মধ্যে ছিল ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং সিস্টেম, হজ প্রিপেইড কার্ড এবং ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সাপোর্ট। এসব উদ্যোগের ফলে যাত্রীরা লাগেজের অবস্থান জানতে পেরেছেন, আর্থিক লেনদেন সহজে করতে পেরেছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও দ্রুত পেয়েছেন।

এবারও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ কার্যকর থাকায় বাংলাদেশি হজযাত্রীরা ঢাকা থেকেই সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পান। ফলে জেদ্দা বা মদিনায় পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় ইমিগ্রেশনে অপেক্ষা করতে হয়নি এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত প্রবাসী মামুনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

হজ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের পবিত্র জমজমের পানি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়, যা অনেক হজযাত্রীর কাছে আনন্দঘন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহ, স্বাস্থ্যসেবা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৭৬ হাজারের বেশি হজযাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা সফলভাবে পরিচালনা করেছে। এতে বোর্ডিং, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং যাত্রী সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্নত পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত তদারকির ফলে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও হজযাত্রীদের আরও উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।