ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্পেনকে রুখে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দের ভোজিনহা Logo গণপরিবহন জিপিএস বাধ্যতামূলক: নতুন নির্দেশনা জানালো বিআরটিএ Logo ইতিহাস বদলাতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, মেসির শেষ মিশন? Logo বিশ্বকাপ না জিতেও সাত তারকা, মিশরকে কড়া বার্তা ফিফার Logo বিশ্বকাপে ভ্রমণ ঝামেলায় ক্ষুব্ধ ইরান, দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার অভিযোগ Logo নকআউটের আগে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল, বাড়ছে দুশ্চিন্তা Logo আর্জেন্টিনাকে হারানো রেনার্ড এবার তিউনিসিয়ার নতুন কোচ Logo আলভারেজ ফিরেছেন, তিন অস্ত্রে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা Logo হবিগঞ্জে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, নিহত ২ Logo পুশ ইনে বিএসএফকে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

প্রতিবছরের মতো নতুন গিলাফে আচ্ছাদিত কাবা। ছবি: সংগৃহীত

কাবা গিলাফ আবারও মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনা কাবা শরীফে নতুন স্বর্ণখচিত গিলাফ পরানো হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিশেষ আয়োজন এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কাবা গিলাফ স্থাপন করা হয়। এ আয়োজন শুধু সৌদি আরবেই নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার একটি মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন কাবা গিলাফ স্থাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলমানরা কাবা শরীফের নতুন রূপের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। অনেকে এটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও আধ্যাত্মিকতার বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবছর গিলাফ পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

কাবা গিলাফ শুধু একটি কাপড় নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও বিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক। পবিত্র কাবা শরীফকে আবৃত করে রাখা এই বিশেষ গিলাফ ‘কিসওয়া’ নামেও পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কাবা শরীফকে বিশেষভাবে তৈরি এই গিলাফ দিয়ে আবৃত করা হয়ে আসছে। ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর এবং তা মুসলিম সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নতুন কাবা গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানের কালো রেশম কাপড়। এর ওপর সোনালি ও রুপালি সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং বিভিন্ন ইসলামিক বাণী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খচিত করা হয়েছে। সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজের কারণে এটি দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি ধর্মীয় মর্যাদার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অক্ষর ও নকশা তৈরি করতে কারিগরদের দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করতে হয়।

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত বিশেষায়িত কিসওয়া কারখানায় এই গিলাফ প্রস্তুত করা হয়। এখানে শতাধিক দক্ষ কারিগর, ডিজাইনার ও প্রযুক্তিবিদ একসঙ্গে কাজ করেন। পুরো গিলাফ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগে। প্রতিটি অংশ বারবার পরীক্ষা করা হয় যাতে গুণগত মান বজায় থাকে এবং কাবা শরীফের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কাবা গিলাফ পরিবর্তনের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক আয়োজন। নতুন গিলাফ স্থাপনের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা ইসলামের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। প্রতি বছর এই আয়োজনকে ঘিরে মুসলিমদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত আবেগঘন। যারা পবিত্র মক্কায় অবস্থান করেন, তারা সরাসরি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পান। অনেক মুসল্লি নতুন গিলাফে আচ্ছাদিত কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন হন। তাদের কাছে এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।

নতুন কাবা গিলাফে ব্যবহৃত সোনালি নকশা এবং কোরআনের আয়াতগুলো বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গিলাফের ওপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও ইসলামিক বাণী সোনালি সুতা দিয়ে সূচিকর্ম করা হয়েছে। এসব কারুকাজ শুধু ধর্মীয় সৌন্দর্যই নয়, বরং ইসলামী শিল্পকলারও অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসলামের ইতিহাসে কাবা গিলাফের প্রচলন বহু পুরোনো। বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শাসক কাবা শরীফের জন্য গিলাফ তৈরি ও পরিবর্তনের দায়িত্ব পালন করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিলাফ তৈরির প্রযুক্তি ও উপকরণে পরিবর্তন এলেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে সৌদি সরকার অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আসছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা প্রতিবছর নতুন কাবা গিলাফের ছবি ও ভিডিও দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়লে লাখো মানুষ তা শেয়ার করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন যে, নতুন গিলাফে আচ্ছাদিত কাবা শরীফের দৃশ্য তাদের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয় এবং ইবাদতের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, কাবা গিলাফ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের মুসলমানরা কাবা শরীফকে কেন্দ্র করেই একত্রিত হন। ফলে নতুন গিলাফ স্থাপনের ঘটনাও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।

এদিকে নতুন গিলাফ স্থাপনের পর পুরোনো গিলাফের বিভিন্ন অংশ সংরক্ষণ করা হয়। কখনও কখনও বিশেষ উপহার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের কাছে এর অংশ হস্তান্তর করা হয়। ফলে পুরোনো গিলাফও ইসলামী ঐতিহ্যের মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।

নতুন কাবা গিলাফ স্থাপনের মধ্য দিয়ে আবারও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে ধর্মীয় আবেগের সঞ্চার হয়েছে। স্বর্ণখচিত এই গিলাফ কাবা শরীফের সৌন্দর্যকে আরও অনন্য করে তুলেছে। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশ্বাস, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। কাবা গিলাফ পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে একইভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান দখল করে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনকে রুখে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দের ভোজিনহা

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

Update Time : ০২:০০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কাবা গিলাফ আবারও মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনা কাবা শরীফে নতুন স্বর্ণখচিত গিলাফ পরানো হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিশেষ আয়োজন এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কাবা গিলাফ স্থাপন করা হয়। এ আয়োজন শুধু সৌদি আরবেই নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার একটি মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন কাবা গিলাফ স্থাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলমানরা কাবা শরীফের নতুন রূপের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। অনেকে এটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও আধ্যাত্মিকতার বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবছর গিলাফ পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

কাবা গিলাফ শুধু একটি কাপড় নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও বিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক। পবিত্র কাবা শরীফকে আবৃত করে রাখা এই বিশেষ গিলাফ ‘কিসওয়া’ নামেও পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কাবা শরীফকে বিশেষভাবে তৈরি এই গিলাফ দিয়ে আবৃত করা হয়ে আসছে। ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর এবং তা মুসলিম সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরও পড়ুন  বিদ্যুতের দর আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য, বিল বাড়ছে না

নতুন কাবা গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানের কালো রেশম কাপড়। এর ওপর সোনালি ও রুপালি সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং বিভিন্ন ইসলামিক বাণী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খচিত করা হয়েছে। সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজের কারণে এটি দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি ধর্মীয় মর্যাদার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অক্ষর ও নকশা তৈরি করতে কারিগরদের দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করতে হয়।

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত বিশেষায়িত কিসওয়া কারখানায় এই গিলাফ প্রস্তুত করা হয়। এখানে শতাধিক দক্ষ কারিগর, ডিজাইনার ও প্রযুক্তিবিদ একসঙ্গে কাজ করেন। পুরো গিলাফ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগে। প্রতিটি অংশ বারবার পরীক্ষা করা হয় যাতে গুণগত মান বজায় থাকে এবং কাবা শরীফের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কাবা গিলাফ পরিবর্তনের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক আয়োজন। নতুন গিলাফ স্থাপনের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা ইসলামের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। প্রতি বছর এই আয়োজনকে ঘিরে মুসলিমদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুন  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা নিয়ে ঘূর্ণিঝড়-এর পূর্বাভাস

বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত আবেগঘন। যারা পবিত্র মক্কায় অবস্থান করেন, তারা সরাসরি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পান। অনেক মুসল্লি নতুন গিলাফে আচ্ছাদিত কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন হন। তাদের কাছে এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।

নতুন কাবা গিলাফে ব্যবহৃত সোনালি নকশা এবং কোরআনের আয়াতগুলো বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গিলাফের ওপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও ইসলামিক বাণী সোনালি সুতা দিয়ে সূচিকর্ম করা হয়েছে। এসব কারুকাজ শুধু ধর্মীয় সৌন্দর্যই নয়, বরং ইসলামী শিল্পকলারও অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসলামের ইতিহাসে কাবা গিলাফের প্রচলন বহু পুরোনো। বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শাসক কাবা শরীফের জন্য গিলাফ তৈরি ও পরিবর্তনের দায়িত্ব পালন করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিলাফ তৈরির প্রযুক্তি ও উপকরণে পরিবর্তন এলেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে সৌদি সরকার অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আসছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা প্রতিবছর নতুন কাবা গিলাফের ছবি ও ভিডিও দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়লে লাখো মানুষ তা শেয়ার করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন যে, নতুন গিলাফে আচ্ছাদিত কাবা শরীফের দৃশ্য তাদের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয় এবং ইবাদতের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য জ্বালানি মন্ত্রীর

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, কাবা গিলাফ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের মুসলমানরা কাবা শরীফকে কেন্দ্র করেই একত্রিত হন। ফলে নতুন গিলাফ স্থাপনের ঘটনাও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।

এদিকে নতুন গিলাফ স্থাপনের পর পুরোনো গিলাফের বিভিন্ন অংশ সংরক্ষণ করা হয়। কখনও কখনও বিশেষ উপহার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের কাছে এর অংশ হস্তান্তর করা হয়। ফলে পুরোনো গিলাফও ইসলামী ঐতিহ্যের মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।

নতুন কাবা গিলাফ স্থাপনের মধ্য দিয়ে আবারও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে ধর্মীয় আবেগের সঞ্চার হয়েছে। স্বর্ণখচিত এই গিলাফ কাবা শরীফের সৌন্দর্যকে আরও অনন্য করে তুলেছে। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশ্বাস, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। কাবা গিলাফ পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে একইভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান দখল করে থাকবে।