ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প

তিন দশক পরও আলোচনায় তাদের ভালোবাসার গল্প। ছবি: সংগৃহীত

মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেমের গল্প আজও ঢালিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। প্রায় তিন দশক আগে শুরু হওয়া এই ভালোবাসার স্মৃতি আবারও আলোচনায় এসেছে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। ওমর সানীর স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এমন এক ঘটনা, যেখানে একটি দুঃস্বপ্ন দেখার পর ঘোমটা দিয়ে তার বাসায় হাজির হয়েছিলেন মৌসুমী। সেই মুহূর্ত থেকেই দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে বলে জানান এই অভিনেতা।

১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাদের জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। তবে তারও আগে, ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্রাঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত পরিচালকের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ে করেন মৌসুমী ও ওমর সানী। সংবর্ধনার দিন বরযাত্রী হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শেরাটন হোটেলে যান ওমর সানী। তার পেছনে ছিল ১১৭টি গাড়ির বহর, যা মহাখালী ডিওএইচএস থেকে শাহবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করেছিল। সে সময় ঢাকার মানুষের কাছে এটি ছিল বিরল এক আয়োজন।

দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরতে। পরে একটি নতুন ছবির প্রস্তাব নিয়ে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের বাসায় নিয়ে যান। যদিও সেই ছবিতে অভিনয় করা হয়নি মৌসুমীর। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘দোলা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। শুটিংয়ের সময় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলেও ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব বদলে যায় আন্তরিকতায়। পরে ‘আত্ম অহংকার’ ছবির শুটিংয়ে একসঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মৌসুমীর জন্মদিনে নিজের মায়ের দেওয়া সাড়ে তিন থেকে চার ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেন তিনি। সেই উপহার মৌসুমীকে যেমন অবাক করেছিল, তেমনি সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। কিছুদিন পর একদিন ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির হন মৌসুমী। কারণ, তিনি নাকি ওমর সানীকে নিয়ে একটি দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন এবং এফডিসিতে যাওয়ার আগে তার খোঁজ নিতে চেয়েছিলেন। ওমর সানীর মতে, সেদিনই তিনি বুঝতে পারেন, তাদের সম্পর্ক আর শুধু সহশিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতাও তাদের সম্পর্ককে বিয়ের দিকে এগিয়ে নেয়। শুরুতে মৌসুমীর মা চলচ্চিত্রাঙ্গনের কাউকে জামাই হিসেবে চাননি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। একপর্যায়ে মৌসুমীর নানি নিজেই তাকে নিয়ে ওমর সানীদের বাসায় যান এবং সেদিনই কাজি ডেকে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অভিনয়জীবনের কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিয়ের খবর গোপন রাখা হলেও পরে প্রথম সন্তানের আগমনের খবর জানার পর আর বিষয়টি লুকিয়ে রাখেননি তারা। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয় তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

আজও মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্ক অনেকের কাছে ভালোবাসা, আস্থা এবং পারিবারিক বন্ধনের অনুপ্রেরণা। ঘোড়ার গাড়িতে বরযাত্রা, ১১৭টি গাড়ির বহর এবং স্বপ্ন দেখে প্রিয় মানুষের খোঁজে ছুটে আসার মতো স্মৃতিগুলো তাদের প্রেমের গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। তিন দশক পরও সেই ভালোবাসার গল্প দর্শক-ভক্তদের কাছে সমানভাবে আবেগ আর নস্টালজিয়ার নাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প

Update Time : ১১:০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেমের গল্প আজও ঢালিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। প্রায় তিন দশক আগে শুরু হওয়া এই ভালোবাসার স্মৃতি আবারও আলোচনায় এসেছে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। ওমর সানীর স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এমন এক ঘটনা, যেখানে একটি দুঃস্বপ্ন দেখার পর ঘোমটা দিয়ে তার বাসায় হাজির হয়েছিলেন মৌসুমী। সেই মুহূর্ত থেকেই দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে বলে জানান এই অভিনেতা।

১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাদের জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। তবে তারও আগে, ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্রাঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত পরিচালকের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ে করেন মৌসুমী ও ওমর সানী। সংবর্ধনার দিন বরযাত্রী হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শেরাটন হোটেলে যান ওমর সানী। তার পেছনে ছিল ১১৭টি গাড়ির বহর, যা মহাখালী ডিওএইচএস থেকে শাহবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করেছিল। সে সময় ঢাকার মানুষের কাছে এটি ছিল বিরল এক আয়োজন।

আরও পড়ুন  শর্মিলী মা স্মরণে আবেগঘন গল্প, আজও অমলিন ভালোবাসা

দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরতে। পরে একটি নতুন ছবির প্রস্তাব নিয়ে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের বাসায় নিয়ে যান। যদিও সেই ছবিতে অভিনয় করা হয়নি মৌসুমীর। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘দোলা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। শুটিংয়ের সময় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলেও ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব বদলে যায় আন্তরিকতায়। পরে ‘আত্ম অহংকার’ ছবির শুটিংয়ে একসঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  পূর্ণিমার শৈশবের ছবি: আবেগঘন পোস্টে মুগ্ধ ভক্তরা

ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মৌসুমীর জন্মদিনে নিজের মায়ের দেওয়া সাড়ে তিন থেকে চার ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেন তিনি। সেই উপহার মৌসুমীকে যেমন অবাক করেছিল, তেমনি সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। কিছুদিন পর একদিন ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির হন মৌসুমী। কারণ, তিনি নাকি ওমর সানীকে নিয়ে একটি দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন এবং এফডিসিতে যাওয়ার আগে তার খোঁজ নিতে চেয়েছিলেন। ওমর সানীর মতে, সেদিনই তিনি বুঝতে পারেন, তাদের সম্পর্ক আর শুধু সহশিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতাও তাদের সম্পর্ককে বিয়ের দিকে এগিয়ে নেয়। শুরুতে মৌসুমীর মা চলচ্চিত্রাঙ্গনের কাউকে জামাই হিসেবে চাননি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। একপর্যায়ে মৌসুমীর নানি নিজেই তাকে নিয়ে ওমর সানীদের বাসায় যান এবং সেদিনই কাজি ডেকে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অভিনয়জীবনের কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিয়ের খবর গোপন রাখা হলেও পরে প্রথম সন্তানের আগমনের খবর জানার পর আর বিষয়টি লুকিয়ে রাখেননি তারা। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয় তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

আরও পড়ুন  জয়া আহসানের সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজের তুলনা: যা বললেন বিপাশা হায়াত

আজও মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্ক অনেকের কাছে ভালোবাসা, আস্থা এবং পারিবারিক বন্ধনের অনুপ্রেরণা। ঘোড়ার গাড়িতে বরযাত্রা, ১১৭টি গাড়ির বহর এবং স্বপ্ন দেখে প্রিয় মানুষের খোঁজে ছুটে আসার মতো স্মৃতিগুলো তাদের প্রেমের গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। তিন দশক পরও সেই ভালোবাসার গল্প দর্শক-ভক্তদের কাছে সমানভাবে আবেগ আর নস্টালজিয়ার নাম।