ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাফরুলে বাসে আগুন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ Logo অস্কারে ভারতের প্রতিনিধি ‘গোন্ধল’ ৩৩ সিনেমার লড়াই শেষে নির্বাচিত! Logo মা হওয়ার পর বদলে গেছে লুক, সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্যাটরিনা! Logo মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর Logo ব্র্যাক ব্যাংক ফোর্বসের বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায়! Logo তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক Logo গফরগাঁওয়ে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ Logo বাঁশ দিবসে ঘরেই রান্না করুন বাঁশকোরল দিয়ে হাঁসের মাংস! Logo বিলুপ্তির ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা পান্ডা কেন শুধু চীনেই দেখা যায়? Logo অক্টোবরে তেল আমদানি বন্ধের আভাস, ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

মিয়ানমারে কার্যক্রম ঘিরে তদন্তের মুখে টেলিনর। ছবি: সংগৃহীত।

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পুলিশ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে গ্রাহকদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

নরওয়ের পুলিশের অভিযোগ, টেলিনর মিয়ানমারের গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য একাধিকবার সামরিক সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের দাবি, ওই সময় দেশটির সামরিক সরকার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেয় টেলিনর এবং ২০২২ সালের মার্চে দেশটি থেকে পুরোপুরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে যতটা সম্ভব পরিষ্কার তথ্য দিতে চায়। টেলিনরের দাবি, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর–মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ দাবিগুলোও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।

টেলিনরকে ঘিরে তদন্তের আরেকটি দিক হলো নজরদারি সরঞ্জাম। নরওয়ের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জামও হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। অধিকারকর্মীদের সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং টেলিনরের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাফরুলে বাসে আগুন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর

Update Time : ১২:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পুলিশ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে গ্রাহকদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে: মোদির বিজয়ে নতুন অধ্যায়

নরওয়ের পুলিশের অভিযোগ, টেলিনর মিয়ানমারের গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য একাধিকবার সামরিক সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের দাবি, ওই সময় দেশটির সামরিক সরকার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেয় টেলিনর এবং ২০২২ সালের মার্চে দেশটি থেকে পুরোপুরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে যতটা সম্ভব পরিষ্কার তথ্য দিতে চায়। টেলিনরের দাবি, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।

আরও পড়ুন  ইরানের হামলায় কুয়েতে আগুন: ১০ হাজার মানুষ পানিসংকটে | সর্বশেষ আপডেট

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর–মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ দাবিগুলোও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।

আরও পড়ুন  ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

টেলিনরকে ঘিরে তদন্তের আরেকটি দিক হলো নজরদারি সরঞ্জাম। নরওয়ের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জামও হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। অধিকারকর্মীদের সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং টেলিনরের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।