সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনা সামনে এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হবে। একই সঙ্গে ১৫ বছরের নিচে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে থাকবে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের জন্য অভিভাবকের মাধ্যমে পরিচালিত সীমিত সুবিধার ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশু-কিশোরবান্ধব ও নিরাপদ ডিজাইন নিশ্চিত করতে হবে।
এই উদ্যোগের পেছনে শিশুদের সাইবার বুলিং, ক্ষতিকর কনটেন্ট, অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তিকর ডিজাইন নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশন ইতোমধ্যে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে কমিশন জানিয়েছিল, ১৩ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রবেশ ঠেকাতে মেটার ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট কার্যকর নয়।
নতুন পরিকল্পনায় শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অনলাইন সেবার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এআই চ্যাটবট, ভিডিও গেম ও ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের মতো সেবার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব বিধিনিষেধের বিস্তারিত চূড়ান্ত আইনি প্রস্তাবে স্পষ্ট হবে।
প্রস্তাবিত নিয়মে শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে অনলাইনে আটকে রাখে এমন ফিচার নিয়েও কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ইনফিনিট স্ক্রোলিংয়ের মতো আসক্তিকর ডিজাইন রয়েছে। একই সঙ্গে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর আইন নয়। এটি ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নীতিমালার অংশ, যা সামনে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে বয়সসীমা, অ্যাকাউন্টের ধরন, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরবর্তী আলোচনায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ইউরোপের শিশু-কিশোরদের অনলাইন ব্যবহারের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসবে।




























