ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬৭, বাড়তে পারে প্রাণহানি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

সুদানের পশ্চিম কর্ডোফানে সোনার খনি ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। | ছবি: সংগৃহীত

সোনার খনি ধসে সুদানের পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নুহুদের কাছে অবস্থিত ওই খনিতে ধসের পর এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। খনি ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহত বা আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই এলাকায় খনি শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খননকাজ পরিচালনার কারণে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়েছে। সংগঠনটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

খনি দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণাধীন কর্তৃপক্ষকে বেসামরিক নাগরিক ও খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া খনিতে কাজ করানো হলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

সুদানে সোনার খনি ধসের মতো দুর্ঘটনা দেশটির ক্ষুদ্র খনি শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। দেশজুড়ে ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের খনন পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

আল-জারা সোনার খনির দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও সামনে আসছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০০ কোটির সিনেমার সাফল্যে আলোচনায় মামিথা বাইজু

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬৭, বাড়তে পারে প্রাণহানি

Update Time : ০৭:১৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনার খনি ধসে সুদানের পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নুহুদের কাছে অবস্থিত ওই খনিতে ধসের পর এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। খনি ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহত বা আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র হামলা থামালেও কেন আবার সংঘাতে জড়ালো ইরান?

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই এলাকায় খনি শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খননকাজ পরিচালনার কারণে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়েছে। সংগঠনটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

খনি দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণাধীন কর্তৃপক্ষকে বেসামরিক নাগরিক ও খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া খনিতে কাজ করানো হলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা আমিরাতে

সুদানে সোনার খনি ধসের মতো দুর্ঘটনা দেশটির ক্ষুদ্র খনি শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। দেশজুড়ে ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের খনন পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন  লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল ইসরায়েল, যা বললেন নেতানিয়াহু

আল-জারা সোনার খনির দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও সামনে আসছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।