অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল জয় করা যে কোনো বয়সেই কঠিন। আর সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন ৯১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ডেল ‘গ্রে বিয়ার্ড’ স্যান্ডার্স। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ, জঙ্গল, পাথুরে ঢাল আর কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে তিনি আবারও নিজের নাম তুলেছেন রেকর্ডের পাতায়। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট মেইনের মাউন্ট কাটাহডিনের চূড়ায় পৌঁছে অভিযান শেষ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই দীর্ঘ ট্রেইল সম্পন্ন করার রেকর্ড নিজের করে নেন স্যান্ডার্স।
স্যান্ডার্সের এবারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়া থেকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে পথটি অতিক্রম করেন এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছান মেইনের মাউন্ট কাটাহডিনে। অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া থেকে মেইন পর্যন্ত বিস্তৃত বিশ্বের দীর্ঘতম hiking-only footpath হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের অফিসিয়াল হিসাবে পুরো ট্রেইলের দৈর্ঘ্য ২,১৯৭.৯ মাইল। এই পথ ১৪টি অঙ্গরাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর ভূপ্রকৃতিতে রয়েছে পাহাড়, বন, পাথুরে পথ ও নানা ধরনের দুর্গম অংশ।
তবে এই রেকর্ড গড়ার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। নিজের হিসাব অনুযায়ী, পুরো অভিযানে স্যান্ডার্স ৭১ বার পড়ে গেছেন। এর মধ্যে ছয়টি পড়ে যাওয়া ছিল গুরুতর ধরনের। একটি ঘটনায় তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তার শারীরিক সমস্যাটি স্ট্রোক নয়, বরং একটি pinched nerve-এর কারণে হয়েছিল। এত কিছুর পরও তিনি আবার ট্রেইনে ফিরে আসেন। এমনকি শেষ গন্তব্যের মাত্র ২০০ গজ দূরেও তিনি পড়ে যান। কিন্তু সেই আঘাতও তাকে থামাতে পারেনি।
এই সাফল্য স্যান্ডার্সের জন্য আরও বিশেষ, কারণ এটি তার হারানো একটি পুরোনো রেকর্ডও ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালে ৮২ বছর বয়সে প্রথমবার অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল সম্পন্ন করে সবচেয়ে প্রবীণ হাইকারের রেকর্ড করেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালে তার বন্ধু এম জে ইবারহার্ট ৮৩ বছর বয়সে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন। এরপর নিজের রেকর্ড ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যেই নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেন স্যান্ডার্স। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও শারীরিক নানা সমস্যার মধ্যেও তিনি সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
অভিযানের শেষ মুহূর্তে স্যান্ডার্সের সামনে ছিল শুধু একটি পাহাড়ের চূড়া নয়, ছিল নিজের সঙ্গে করা একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের চ্যালেঞ্জ। মাউন্ট কাটাহডিনের চূড়ায় পৌঁছে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার সাপোর্ট টিম ও পথে সাহায্য করা মানুষদের ধন্যবাদ দেন। অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল-এর মতো কঠিন অভিযানে সহযাত্রী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেছেন। তার এই যাত্রা দেখিয়েছে, বয়স কখনো কখনো শরীরের সীমা তৈরি করলেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সেই সীমার অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিতে পারে।
ডেল স্যান্ডার্সের গল্প তাই শুধু একটি হাইকিং রেকর্ডের গল্প নয়; এটি নতুন করে শুরু করার সাহসের গল্প। ৯১ বছর বয়সে এমন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনের বড় স্বপ্নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। Appalachian Trail Conservancy-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরো ট্রেইল ১২ মাস বা তার কম সময়ে সম্পন্ন করাকে thru-hike বলা হয়। হাজারো মানুষ প্রতিবছর এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সফলভাবে শেষ করতে পারেন তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক হাইকার। স্যান্ডার্সের এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তন তাই শুধু রেকর্ডই নয়, বয়সকে নতুনভাবে দেখার এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণাও হয়ে থাকল।



























