কড়াই কিচেন এবার জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর বছরের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায়। নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে থাকা এই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটি মূলত ঘরোয়া স্বাদের খাবারের জন্য পরিচিত। মা ও মেয়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতিও আরও বাড়ল। রেস্তোরাঁটি ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশি হোমস্টাইল খাবার পরিবেশন করে আসছে।
মা নূর-ই গুলশান রহমান ও মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের পরিচালনায় এগিয়ে চলছে কড়াই কিচেন। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন এখানে টেকআউটের মাধ্যমে খাবার পাওয়া যায়। তবে শুক্র ও শনিবার রাতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘দাওয়াত’ ডিনারের। প্রায় তিন ঘণ্টার এই আয়োজনে একের পর এক বাংলাদেশি পদ পরিবেশন করা হয়, যেখানে আটটি পদের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত খাবারের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
এই রেস্তোরাঁর খাবারের বিশেষত্ব হলো পরিচিত বাংলাদেশি স্বাদকে ধরে রাখা। ভর্তা, ডাল, ভাজি, মাছ, মাংস, চিংড়ি, ডিমের তরকারি থেকে শুরু করে বিরিয়ানি পর্যন্ত নানা ধরনের পদ পাওয়া যায়। কাঁচা মরিচ ও সরিষার তেলের মতো উপকরণের ব্যবহার খাবারে আলাদা স্বাদ তৈরি করে। অনলাইন রিভিউতেও দাওয়াত ডিনারের দীর্ঘ আয়োজন এবং ঘরোয়া বাংলাদেশি স্বাদের প্রশংসা দেখা যায়।
কড়াই কিচেন অবশ্য এবারই প্রথম আলোচনায় আসেনি। এর আগে স্থানীয় পর্যায়েও রেস্তোরাঁটি স্বীকৃতি পেয়েছে। মা-মেয়ের এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাংলাদেশি খাবারের একটি পরিচিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে জার্সি সিটিতে। বিশেষ করে অভিবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ঘরের খাবারের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
রেস্তোরাঁটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ‘দাওয়াত’কে অনেকেই বাংলাদেশি ঘরোয়া ভোজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রায় তিন ঘণ্টার খাবারের আয়োজনে বিভিন্ন পদ পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করা হয়। অতিথিদের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় ভর্তা, ডাল, বেগুন ভাজা, মিশ্র সবজি, নদীর মাছ, চিকেন রোস্ট, গরুর মাংস, চিংড়ির তরকারি, ডিমের কারি ও বিরিয়ানির মতো নানা পদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের রান্নার ঐতিহ্যকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরে কড়াই কিচেন এখন আরও বড় পরিসরে পরিচিতি পাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় জায়গা পাওয়া শুধু একটি রেস্তোরাঁর স্বীকৃতি নয়, বাংলাদেশি খাবারের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক খাবারের অঙ্গনেও যে জায়গা করে নিচ্ছে, তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মা-মেয়ের ছোট উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে আসার এই গল্প তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিশেষ আনন্দের।



























