ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নেওয়ার সুযোগে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’ ব্যবস্থায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদের জন্য চালু করা হচ্ছে লটারিভিত্তিক ‘ব্যালট’ পদ্ধতি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এসব নতুন অভিবাসন নীতির ঘোষণা দেন।

নতুন নিয়মে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারবেন না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট কিছু কোর্সে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে। পিএইচডির মতো উচ্চতর পর্যায়ের কিছু কোর্সের শিক্ষার্থীরাও পরিবারের সদস্য নিতে পারবেন।

ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার বিচ্ছিন্ন করবে না। অর্থাৎ বর্তমানে যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। নতুন বিধিনিষেধ মূলত ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ভিসার সঙ্গে পরিবারের সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বারবার একই পর্যায়ের কোর্স পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগও কমানো হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ করে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা হবে। তবে বৈধভাবে পড়াশোনা শেষে দক্ষতার ভিত্তিতে অন্য ভিসায় যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ করা হচ্ছে না।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। দ্বিতীয় মেয়াদের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের আগে প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক কাজের শর্ত পূরণ করতে হবে, এরপর নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদনকারীকে ব্যালটের মাধ্যমে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় মেয়াদে মাত্র ৫ হাজার জায়গা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অন্য ভিসার মাধ্যমে অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা দেশটিতে অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে আরও ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের লক্ষ্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিট বিদেশি অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে এ খাত থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম

বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম

Update Time : ০৮:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নেওয়ার সুযোগে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’ ব্যবস্থায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদের জন্য চালু করা হচ্ছে লটারিভিত্তিক ‘ব্যালট’ পদ্ধতি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এসব নতুন অভিবাসন নীতির ঘোষণা দেন।

নতুন নিয়মে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারবেন না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট কিছু কোর্সে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে। পিএইচডির মতো উচ্চতর পর্যায়ের কিছু কোর্সের শিক্ষার্থীরাও পরিবারের সদস্য নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন  আজকের বিনিময় হার: গুরুত্বপূর্ণ ডলার স্থির, কমল ইউরো-পাউন্ড

ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার বিচ্ছিন্ন করবে না। অর্থাৎ বর্তমানে যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। নতুন বিধিনিষেধ মূলত ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ভিসার সঙ্গে পরিবারের সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বারবার একই পর্যায়ের কোর্স পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগও কমানো হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ করে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা হবে। তবে বৈধভাবে পড়াশোনা শেষে দক্ষতার ভিত্তিতে অন্য ভিসায় যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। দ্বিতীয় মেয়াদের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের আগে প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক কাজের শর্ত পূরণ করতে হবে, এরপর নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদনকারীকে ব্যালটের মাধ্যমে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় মেয়াদে মাত্র ৫ হাজার জায়গা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অন্য ভিসার মাধ্যমে অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা দেশটিতে অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে আরও ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ বাড়ছে, টিকা না নেওয়া ২ জনের মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়া সরকারের লক্ষ্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিট বিদেশি অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে এ খাত থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।