ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশ দলকে কোয়াবের সংবর্ধনা

কেক কাটছেন অধিায়ক নাজমুল হোসেন ও কোচ ফিল সিমন্স l ছবি: সংগৃহীত

গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে দেশে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’-এ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসা বাংলাদেশ দলের সব সদস্যকে সাফল্যের স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দিয়েছে কোয়াব। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দলের এমন সাফল্যকে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

কোয়াবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দলের এই সাফল্যের পেছনে পুরো কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই টেস্ট সিরিজের কথা মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কঠিন কন্ডিশনে দলের ক্রিকেটারদের লড়াই ও পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফের কাছেও বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পেছনের দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। সেই সময় থেকে বর্তমান দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্যকে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল এমন একটি কীর্তি অর্জন করেছে, যা সবার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। তাঁর মতে, এমন পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে এবং টেস্ট ক্রিকেটে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এবং সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদও বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা ও অস্ট্রেলিয়া সফরের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁরা দলের প্রতি সম্মান জানান। সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান এবং সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হকও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফেরা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেও কয়েকজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। লিটন দাস, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার অভিজ্ঞতা তাঁদের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া সফরের এই সাফল্য নিয়ে এরই মধ্যে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার পর দেশে ফিরে পাওয়া এই সংবর্ধনা ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াবের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দলের কৃতিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশ দলকে কোয়াবের সংবর্ধনা

Update Time : ০৭:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে দেশে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’-এ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসা বাংলাদেশ দলের সব সদস্যকে সাফল্যের স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দিয়েছে কোয়াব। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দলের এমন সাফল্যকে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

কোয়াবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দলের এই সাফল্যের পেছনে পুরো কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ভাবনা নয়, উইকেট নেওয়াতেই নজর নাজমুলের

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই টেস্ট সিরিজের কথা মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কঠিন কন্ডিশনে দলের ক্রিকেটারদের লড়াই ও পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফের কাছেও বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পেছনের দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। সেই সময় থেকে বর্তমান দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্যকে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ!

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল এমন একটি কীর্তি অর্জন করেছে, যা সবার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। তাঁর মতে, এমন পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে এবং টেস্ট ক্রিকেটে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এবং সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদও বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা ও অস্ট্রেলিয়া সফরের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁরা দলের প্রতি সম্মান জানান। সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান এবং সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হকও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন  ভেঙে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফেরা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেও কয়েকজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। লিটন দাস, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার অভিজ্ঞতা তাঁদের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া সফরের এই সাফল্য নিয়ে এরই মধ্যে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার পর দেশে ফিরে পাওয়া এই সংবর্ধনা ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াবের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দলের কৃতিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হলো।