পাকিস্তানের টেস্ট রেকর্ডে যুক্ত হলো নতুন এক বিব্রতকর অধ্যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও বড় ব্যবধানে হারের পর প্রায় ৩৯ বছর পুরোনো এক নেতিবাচক পরিসংখ্যানে ফিরে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রত্যাশিত লড়াই গড়ে তুলতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ জয়ের সুযোগ আগেই শেষ হয়ে গেছে। তবে এই হারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পাকিস্তানের দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসের পরিসংখ্যানে।
ইংল্যান্ডের কাছে সর্বশেষ হারের পর পাকিস্তানের টেস্ট জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। ৪৭৩টি টেস্ট খেলে পাকিস্তান জিতেছে ১৫৩ ম্যাচে। বিপরীতে তাদের হারের সংখ্যা এখন ১৫৪টি। বাকি ১৬৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
এর আগে ১৯৮৭ সালের পর পাকিস্তানকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। সে সময় পর্যন্ত পাকিস্তান ১৭০টি টেস্ট খেলেছিল। এর মধ্যে তাদের জয় ছিল ৩৯টি এবং হার ছিল ৪০টি। এরপর ধীরে ধীরে দলটি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জয়ের সংখ্যা হারের চেয়ে বেশি ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একের পর এক হতাশাজনক ফলের কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে তাদের সাফল্যের ব্যবধান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ হার সেই পুরোনো নেতিবাচক পরিস্থিতিকেই আবার ফিরিয়ে এনেছে।
জয়ের জন্য ৩৮৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। কিন্তু দলটি শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৯৪ রানে। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও সৌদ শাকিল একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার ৯৭ রানের ইনিংস পাকিস্তানের জন্য আশা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
এই হারের ফলে পাকিস্তানের জন্য শুধু সিরিজ নয়, টেস্ট ইতিহাসের পরিসংখ্যানও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে রেকর্ডে পাকিস্তানের জয়ের সংখ্যা এগিয়ে ছিল, সেটি এখন আবার হারের নিচে নেমে গেছে।
তবে দ্রুতই পরিস্থিতি বদলানোর সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তান। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচে জয় পেলে পাকিস্তান তাদের জয় ও হারের সংখ্যায় আবার সমতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।
যদিও সিরিজ হার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, তবুও শেষ টেস্টটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জয় শুধু ব্যবধান কমাবে না, পাকিস্তানের টেস্ট রেকর্ডে নতুন করে আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে আনতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান এই বিব্রতকর পরিসংখ্যান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে কি না।


























