২০২৭ সালের পর ফিফার সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আর দেখতে চায় না নেদারল্যান্ডসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। শুধু সভাপতি পরিবর্তন নয়, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিচালন কাঠামোতেও বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা। এ লক্ষ্যে আমস্টারডামে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ডাচ ফুটবল সংস্থাটি। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও কনফেডারেশনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
রোববার এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর অনাস্থার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে কেএনভিবি। সংস্থাটি বলেছে, ফিফা সভাপতির নেতৃত্বে তাদের আর আস্থা নেই এবং ২০২৭ সাল থেকে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে একজন নতুন সভাপতি দায়িত্ব নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মনে করছে তারা। ফিফা পরিচালনার বর্তমান কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে কেএনভিবি।
১৯০৪ সালে ফিফার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম ছিল নেদারল্যান্ডসের এই ফুটবল সংস্থা। সাম্প্রতিক ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন করেছিল তারা। তবে সেই সমর্থন কখনোই শর্তহীন ছিল না বলে জানিয়েছে কেএনভিবি। এবার তার সম্ভাব্য পুনর্নির্বাচনের আগে ডাচ সংস্থাটির এমন অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি পদে আবারও নির্বাচনে লড়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। এরই মধ্যে তার নেতৃত্ব ও ফিফার পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্টে বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পরও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেএনভিবি তাদের প্রস্তাবিত সম্মেলনের নাম দিয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সামিট অন দ্য ফিউচার অব ফিফা’। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে ভবিষ্যতে কেমন ফিফা দেখতে চায় বিশ্ব ফুটবল, সেটিই নির্ধারণ করতে চায় তারা। ডাচ সংস্থার অভিযোগ, ফিফা সভাপতির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি ও ফিফা প্রশাসনের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষমতার বিভাজনও নেই।
ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাবও দিয়েছে কেএনভিবি। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিফা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। পুরো প্রক্রিয়াটি ফিফা কাউন্সিলের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় রাখার কথাও বলেছে তারা। এতে ফিফার ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছে ডাচ ফুটবল সংস্থাটি।
এ ছাড়া ফিফার মহাসচিবকে প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার এবং সভাপতিকে বিশ্বজুড়ে ফিফার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে কেএনভিবি। তাদের মতে, দায়িত্বের এই বিভাজন সংস্থাটির পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। একই সঙ্গে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে তারা। মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে রাখতে চায় কেএনভিবি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ফিফার বণ্টনযোগ্য আয়ের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফুটবলের উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছে ডাচ সংস্থাটি। গত সপ্তাহে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ধনী ও কম আর্থিক সক্ষমতার সদস্য দেশগুলোর ব্যবধান কমানো ফিফার দায়িত্ব। তবে কেএনভিবি জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনা কোনোভাবেই ইউরোপের পক্ষ থেকে বিশ্বের বাকি অংশের জন্য চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বরং ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও কনফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে চায় কেএনভিবি। তাদের লক্ষ্য, বিশ্ব ফুটবলের সব অঞ্চলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ফিফার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করা। এদিকে উয়েফাও সম্প্রতি ফিফাকে ঘিরে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের কাছে ফ্লোরিডায় থাকা ফিফার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাক্ষ্য ও নথি সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছে তারা।
জানা গেছে, এসব তথ্য সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কেএনভিবির বিবৃতি ও সম্মেলনের প্রস্তাব নিয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংস্থাটি। ফলে ২০২৭ সালের পর ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি কতটা সমর্থন পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কেএনভিবির এই উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
























