ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ‘এটা কি বেশি নয়?’

পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা

১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনায় পাওয়া এই শাস্তি কমানোর জন্য আপিল করবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে লানুসের বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়ের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। পারেদেসের দাবি, একই ঘটনায় স্পেনের গাভিকে মাত্র এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তার কাছে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে লানুসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেছেন পারেদেস। দল জয় পাওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্সে স্বস্তি পেলেও ম্যাচ শেষে তার শাস্তির বিষয়টিই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতীয় দলের হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। তাই শাস্তি কমানোর জন্য আপিলের দিকে তাকিয়ে আছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

ম্যাচ শেষে পারেদেস বলেন, তার কাছে ফিফার দেওয়া ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। বিশেষ করে গাভির শাস্তির সঙ্গে নিজের শাস্তির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার কাছে শাস্তিটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গাভি আমার বুকে ঘুষি মেরেছিল। অথচ সে পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।’

তবে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর এখন সামনে থাকা সুযোগ কাজে লাগাতে চান পারেদেস। এএফএ নিষেধাজ্ঞা কমানোর জন্য আপিল করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার আশা, আপিলের মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

পারেদেস বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আমাদের আপিল করতে হবে। শাস্তিটা কমানো যায় কি না, সেটাই দেখতে হবে।’ তার মতে, ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অনেক বেশি এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আপিলে শাস্তি কমবে বলেই আশাবাদী তিনি। এ কারণে এখন ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা।

শাস্তির খবরের মধ্যেও আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ তৈরি হয়েছে। ফিফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কার্যকর করা যাবে। শুরুতে এই সুবিধা ছিল না। ফলে পারেদেসসহ আরও কয়েকজনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং জাতীয় দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তাদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারবেন। চলতি বছরে ফিফার আন্তর্জাতিক সূচিতে আরও দুটি উইন্ডো রয়েছে। প্রথম উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে দলগুলো সর্বোচ্চ চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারবে। এরপর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরের উইন্ডোতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।

এই হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ খেলে, তাহলে পারেদেস ২০২৬ সালেই ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারবেন। বাকি চার ম্যাচের শাস্তি পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচিতে গড়াতে পারে। ফলে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার অনুপস্থিতির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই নিষেধাজ্ঞা কমানোই এখন এএফএর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পারেদেসও বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শাস্তিটা কমানো সম্ভব। আমার কাছে এটা অতিরিক্ত মনে হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন। আশা করি, শাস্তি কমানো যাবে।’ এখন আপিলের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আর্জেন্টিনা ও পারেদেসের সমর্থকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

খলনায়ক ডনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ‘এটা কি বেশি নয়?’

Update Time : ০৮:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনায় পাওয়া এই শাস্তি কমানোর জন্য আপিল করবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে লানুসের বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়ের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। পারেদেসের দাবি, একই ঘটনায় স্পেনের গাভিকে মাত্র এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তার কাছে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে লানুসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেছেন পারেদেস। দল জয় পাওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্সে স্বস্তি পেলেও ম্যাচ শেষে তার শাস্তির বিষয়টিই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতীয় দলের হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। তাই শাস্তি কমানোর জন্য আপিলের দিকে তাকিয়ে আছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

আরও পড়ুন  মেসি সর্বকালের সেরা: বিতর্ক কি এখনও আছে?

ম্যাচ শেষে পারেদেস বলেন, তার কাছে ফিফার দেওয়া ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। বিশেষ করে গাভির শাস্তির সঙ্গে নিজের শাস্তির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার কাছে শাস্তিটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গাভি আমার বুকে ঘুষি মেরেছিল। অথচ সে পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।’

তবে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর এখন সামনে থাকা সুযোগ কাজে লাগাতে চান পারেদেস। এএফএ নিষেধাজ্ঞা কমানোর জন্য আপিল করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার আশা, আপিলের মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

পারেদেস বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আমাদের আপিল করতে হবে। শাস্তিটা কমানো যায় কি না, সেটাই দেখতে হবে।’ তার মতে, ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অনেক বেশি এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আপিলে শাস্তি কমবে বলেই আশাবাদী তিনি। এ কারণে এখন ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন  লিওনেল মেসির সমালোচকদের জবাব দিলেন রিস্টো স্টইচকভ | মেসির প্রতিভার প্রশংসা

শাস্তির খবরের মধ্যেও আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ তৈরি হয়েছে। ফিফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কার্যকর করা যাবে। শুরুতে এই সুবিধা ছিল না। ফলে পারেদেসসহ আরও কয়েকজনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং জাতীয় দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তাদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারবেন। চলতি বছরে ফিফার আন্তর্জাতিক সূচিতে আরও দুটি উইন্ডো রয়েছে। প্রথম উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে দলগুলো সর্বোচ্চ চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারবে। এরপর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরের উইন্ডোতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে সমর্থন দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ানরা

এই হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ খেলে, তাহলে পারেদেস ২০২৬ সালেই ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারবেন। বাকি চার ম্যাচের শাস্তি পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচিতে গড়াতে পারে। ফলে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার অনুপস্থিতির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই নিষেধাজ্ঞা কমানোই এখন এএফএর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পারেদেসও বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শাস্তিটা কমানো সম্ভব। আমার কাছে এটা অতিরিক্ত মনে হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন। আশা করি, শাস্তি কমানো যাবে।’ এখন আপিলের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আর্জেন্টিনা ও পারেদেসের সমর্থকেরা।