জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় ডনের বাসার সামনে তার শৈশবের বন্ধু ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা ডনকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ করা এই অভিনেতার বিরুদ্ধে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। তারা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
ডনের শৈশবের বন্ধু জোসেফ বলেন, ছোটবেলা থেকেই ডন অত্যন্ত ভালো ও উদার মনের মানুষ। তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় এবং সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি। গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও তার মধ্যে ছিল।
জোসেফ আরও বলেন, ডন খুনের মতো নিকৃষ্ট কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন—এটা এলাকার মানুষ বিশ্বাস করতে পারছেন না। তার দাবি, ডনের ব্যক্তিগত জীবন ও এলাকার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বিবেচনায় নিলে অভিযোগটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
প্রতিবেশী আইনুল ইসলাম বলেন, প্রতিহিংসা বা শত্রুতা সাধারণত সমানে সমানে হয়। ডন চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, আর সালমান শাহ ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক। তাই চলচ্চিত্রের চরিত্রকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন ডন বগুড়াতেই ছিলেন বলে তারা জানেন। ফলে তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, চলচ্চিত্রের পর্দায় কোনো অভিনেতা যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটিকে তার বাস্তব জীবনের পরিচয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ডন দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং চলচ্চিত্রে তার অভিনীত নেতিবাচক চরিত্রের কারণে দর্শকদের কাছে তিনি ‘খলনায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
মানববন্ধনে ডনের শৈশবের বন্ধু, প্রতিবেশী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ডনের মুক্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, তারা ডনের নিঃশর্ত মুক্তি চান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।
তবে ডনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো আদালতে বিচারাধীন বিষয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য তাদের নিজস্ব দাবি ও মতামত হিসেবে বিবেচিত হবে। মামলার চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।




























