ভারতের হায়দরাবাদের ‘ফিউচার সিটি’তে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি, যা আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তেলেঙ্গানা সরকার ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) একসঙ্গে কাজ করবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেবে তেলেঙ্গানা সরকার। অন্যদিকে নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব থাকবে বিসিসিআইয়ের হাতে।
হায়দরাবাদের ফিউচার সিটিকে ঘিরে যে বৃহৎ নগর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে এই স্টেডিয়াম। নেট-জিরো বা পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে পুরো এলাকার। স্টেডিয়ামটিও সেই পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্মাণ করা হবে।
বিশাল এই স্টেডিয়ামটি আলাদা কোনো ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে নয়, বরং প্রস্তাবিত ‘স্পোর্টস সিটি’র অন্যতম প্রধান স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে ক্রিকেটের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও থাকবে এখানে।
তবে স্টেডিয়ামটির স্থাপত্য ও নকশার কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কোন স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান বা ডিজাইন পরামর্শক এই প্রকল্পের দায়িত্ব পাবে, সেটিও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রকল্পের বিশালতা এবং ফিউচার সিটির সঙ্গে এর সংযোগের কারণে নকশা প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্টেডিয়ামটি নির্মিত হলে একসঙ্গে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি দর্শক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। ফলে শুধু ধারণক্ষমতার দিক থেকেই নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর দিক থেকেও এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রিকেট ভেন্যু হয়ে উঠতে পারে।
অবস্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটি আউটার রিং রোড এবং রিজিওনাল রিং রোডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে। ফলে হায়দরাবাদসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শকদের মাঠে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ হবে।
বিদেশি দল ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখেও যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটির সঙ্গে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যোগাযোগ থাকবে, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শক ও ক্রিকেটারদের যাতায়াত আরও সহজ করবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে পরিকল্পিত মেট্রো রেল সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই অঞ্চলে গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বড় ম্যাচের সময় বিপুল দর্শকের চাপ সামলাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে হায়দরাবাদের নতুন এই স্টেডিয়াম ক্রিকেট বিশ্বের নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
























