পাউ কুবারসি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক হলেও তাঁর অনুভূতিতে ছিল মিশ্র আবেগ। একদিকে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার আনন্দ, অন্যদিকে নিজের শৈশবের আদর্শ লিওনেল মেসির পরাজয়ের কষ্ট। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই ডিফেন্ডার ফাইনালের পর জানিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনেও মেসির জন্য তাঁর মন খারাপ হয়েছিল।
স্পেনের হয়ে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কুবারসি জিতে নিয়েছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি ছিলেন স্পেনের রক্ষণভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবুও ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, মেসি তাঁর ছোটবেলার আদর্শ এবং প্রথমবার মাঠে তাঁর বিপক্ষে খেলতে পারা ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
কুবারসি জানান, ম্যাচ শুরুর আগে মেসি যখন তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন, তখনই তিনি উপলব্ধি করেন যে স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। শৈশব থেকে যাঁকে অনুসরণ করেছেন, তাঁর বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে পারা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তবে মাঠে নামার পর আবেগ নয়, দায়িত্বকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। নিজের কাজ ছিল দলের রক্ষণ সামলানো, আর সেই দায়িত্ব তিনি শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।
পরিসংখ্যানও কুবারসির অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রমাণ দেয়। ফাইনালে তিনি মোট ১২৬টি পাস দিয়েছেন, যার মধ্যে ১২১টিই ছিল সফল। প্রতিপক্ষের অর্ধে ৪৮টি পাসের মধ্যে ৪৫টি এবং নিজেদের অর্ধে ৭৮টির মধ্যে ৭৬টি সঠিকভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছেছে। পুরো ম্যাচে ১৩৯ বার বল স্পর্শ করেছেন তিনি এবং মাত্র পাঁচবার বলের দখল হারিয়েছেন। একজন সেন্টারব্যাক হিসেবে এমন পরিসংখ্যান বিশ্বমানের পারফরম্যান্স বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
রক্ষণভাগেও কুবারসি ছিলেন দুর্ভেদ্য। তিনি ছয়বার বিপজ্জনক আক্রমণ ক্লিয়ার করেছেন, পাঁচবার বল পুনরুদ্ধার করেছেন এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ১০টি দ্বৈরথের মধ্যে সাতটিতে জয় পেয়েছেন। এমনকি তাঁর দৃঢ় উপস্থিতির কারণে প্রতিপক্ষ তাঁকে থামাতে তিনবার ফাউল করতেও বাধ্য হয়। আক্রমণভাগেও তিনি অবদান রাখেন এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শট নেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর কুবারসি বলেন, পুরো অভিজ্ঞতাই এখনো তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর তাঁদের মনে হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সবসময় দেখতেন, কিন্তু এত অল্প বয়সে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে, তা কখনো ভাবেননি। তাঁর মতে, স্পেনের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল দলের ঐক্য। কঠিন সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একটি পরিবারের মতো লড়ে যাওয়ার মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে।



























