ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসানের ৭ উইকেট, কেন্টের জয়

হাসান মাহমুদের ৭ উইকেট

ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টকে ৮৪ রানের জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ডানহাতি এই পেসার।

ক্যান্টারবুরির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রানে অলআউট হয় কেন্ট। দলের ব্যাটিং ইনিংস খুব বড় না হলেও বল হাতে শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন হাসান। প্রথম দিনের শেষ দিকে টানা দুই বলে দুটি উইকেট নিয়ে ওরচেস্টারশায়ারের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে হাসান ৪ উইকেট শিকার করেন। তার বোলিংয়ের সামনে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় ওরচেস্টারশায়ার। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ২১ রানের লিড পায় কেন্ট। হাসানের বোলিং ফিগার ছিল ৪ উইকেটে ৬৮ রান।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে কেন্টকে বড় সংগ্রহ এনে দেন স্যাম নর্থইস্ট। তিনি করেন ১৩২ রান। এছাড়া জ্যাক ক্রলি ৫৪, ড্যানিয়েল বেল-ড্রুমন্ড ৪৪ এবং ক্রিস বেঞ্জামিন ৩৬ রান করেন। হাসানও ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪ রানে অপরাজিত থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৬ রান। কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৫৮ রানে।

ফলে ওরচেস্টারশায়ারের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮০ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় তারা। তবে এরপর অ্যাডাম হুস ও অধিনায়ক ব্রেট ডি’ওলিভেইরা জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

এই জুটি ভেঙে ম্যাচে আবারও কেন্টকে এগিয়ে দেন হাসান। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ রান করে ফেরেন হুস। এরপর হেনরি কালেনের সঙ্গে জুটি গড়েন ডি’ওলিভেইরা। তাদের জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরেন কালেন।

শেষ দিকে বেন অ্যালিসনের উইকেটও তুলে নেন হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫১ রান। ফলে পুরো ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। হাসানের সঙ্গে তিনটি করে উইকেট নেন কিথ ডাজন ও ম্যাট মিলনস।

ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে একপ্রান্ত আগলে লড়াই করেন ডি’ওলিভেইরা। তিনি ২২১ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন। তার সেঞ্চুরির পরও দলকে জয়ের কাছে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ওরচেস্টারশায়ার। কেন্ট পায় ৮৪ রানের জয়।

কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে হাসান মাহমুদের শুরুটাও ছিল নজরকাড়া। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে দলকে ১৪০ রানের জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে তার বোলিংকে প্রশংসা করেছিলেন কেন্টের সতীর্থরাও।

এরপরও নিয়মিতভাবে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। সর্বশেষ ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭ উইকেট তার কাউন্টি ক্রিকেটের কার্যকর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও হাসানের এমন পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ইংলিশ কাউন্টির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার সুযোগ তার বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে সুইং ও সিম কাজে লাগিয়ে উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্যও ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের আরেক পেসার খালেদ আহমেদও কেন্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার অভিষেক হয়নি। কেন্টের হয়ে হাসানের এমন পারফরম্যান্সের পর সামনে খালেদের অভিষেক নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের ৭ উইকেট শুধু কেন্টের জয় নিশ্চিত করেনি, কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামর্থ্যও আরও একবার তুলে ধরেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসানের ৭ উইকেট, কেন্টের জয়

Update Time : ১০:২৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টকে ৮৪ রানের জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ডানহাতি এই পেসার।

ক্যান্টারবুরির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রানে অলআউট হয় কেন্ট। দলের ব্যাটিং ইনিংস খুব বড় না হলেও বল হাতে শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন হাসান। প্রথম দিনের শেষ দিকে টানা দুই বলে দুটি উইকেট নিয়ে ওরচেস্টারশায়ারের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে হাসান ৪ উইকেট শিকার করেন। তার বোলিংয়ের সামনে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় ওরচেস্টারশায়ার। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ২১ রানের লিড পায় কেন্ট। হাসানের বোলিং ফিগার ছিল ৪ উইকেটে ৬৮ রান।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে কেন্টকে বড় সংগ্রহ এনে দেন স্যাম নর্থইস্ট। তিনি করেন ১৩২ রান। এছাড়া জ্যাক ক্রলি ৫৪, ড্যানিয়েল বেল-ড্রুমন্ড ৪৪ এবং ক্রিস বেঞ্জামিন ৩৬ রান করেন। হাসানও ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪ রানে অপরাজিত থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৬ রান। কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৫৮ রানে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ এ দলের সিরিজ স্থগিত শ্রীলঙ্কা এ দলের বাংলাদেশ সফর পিছিয়েছে

ফলে ওরচেস্টারশায়ারের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮০ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় তারা। তবে এরপর অ্যাডাম হুস ও অধিনায়ক ব্রেট ডি’ওলিভেইরা জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

এই জুটি ভেঙে ম্যাচে আবারও কেন্টকে এগিয়ে দেন হাসান। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ রান করে ফেরেন হুস। এরপর হেনরি কালেনের সঙ্গে জুটি গড়েন ডি’ওলিভেইরা। তাদের জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরেন কালেন।

আরও পড়ুন  খালেদ আহমেদ ইংল্যান্ডের কাউন্টিতে, কেন্টে নতুন চ্যালেঞ্জ

শেষ দিকে বেন অ্যালিসনের উইকেটও তুলে নেন হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫১ রান। ফলে পুরো ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। হাসানের সঙ্গে তিনটি করে উইকেট নেন কিথ ডাজন ও ম্যাট মিলনস।

ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে একপ্রান্ত আগলে লড়াই করেন ডি’ওলিভেইরা। তিনি ২২১ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন। তার সেঞ্চুরির পরও দলকে জয়ের কাছে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ওরচেস্টারশায়ার। কেন্ট পায় ৮৪ রানের জয়।

কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে হাসান মাহমুদের শুরুটাও ছিল নজরকাড়া। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে দলকে ১৪০ রানের জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে তার বোলিংকে প্রশংসা করেছিলেন কেন্টের সতীর্থরাও।

এরপরও নিয়মিতভাবে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। সর্বশেষ ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭ উইকেট তার কাউন্টি ক্রিকেটের কার্যকর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন  সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও হাসানের এমন পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ইংলিশ কাউন্টির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার সুযোগ তার বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে সুইং ও সিম কাজে লাগিয়ে উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্যও ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের আরেক পেসার খালেদ আহমেদও কেন্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার অভিষেক হয়নি। কেন্টের হয়ে হাসানের এমন পারফরম্যান্সের পর সামনে খালেদের অভিষেক নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের ৭ উইকেট শুধু কেন্টের জয় নিশ্চিত করেনি, কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামর্থ্যও আরও একবার তুলে ধরেছে।