ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটিতে এনজোর অভিষেকে হালান্ডের দুই মাইলফলক

সিটিতে এনজো ফার্নান্দেজের অভিষেকে হালান্ডের মাইলফলক

ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের। চেলসি থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড সমান করা ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কোভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে মাঠে নামেন তিনি।

তবে এনজোর অভিষেক ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ থাকলেও ম্যাচের মূল আলো কেড়ে নিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলেই কোভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেল সিটিজেনরা এবং ৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠেছে তারা।

এত গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ম্যাচে হালান্ড নিজেও ছুঁয়েছেন দুটি মাইলফলক। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৬ মিনিটে আঁতোয়ান সেমেনিওর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তিনি। আর সেই গোলই ক্লাব ফুটবলে তার ৩০০তম গোল। মাত্র ৩৮৪ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।

হালান্ডের মাইলফলক অবশ্য এখানেই শেষ নয়। হেডে করা গোলটি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিগে তার ২০তম হেডের গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে লিগে মাথার সাহায্যে ২০ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি পেছনে ফেলেছেন সিটির কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকে, যিনি লিগে হেডে ১৯ গোল করেছিলেন।

চেলসি থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পরই এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে তার দলবদলটি প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ট্রান্সফারগুলোর একটি। সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে তার অভিষেকও ছিল প্রত্যাশিত।

মূলত নিকো ও’রেইলির ওয়ার্ম-আপের সময় চোট পাওয়ার পর এনজোর শুরু থেকেই মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি ম্যাচের ৭৬ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। অভিষেকেই মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ার কাজে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন তিনি।

এনজোর অভিষেকের সঙ্গে আরেক নতুন মুখ ইলিমান এনদিয়ায়েও সিটির হয়ে মাঠে নামেন। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন হালান্ডই।

হালান্ডের গোলের পর ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কোভেন্ট্রি বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে সিটিকে এগিয়ে রাখেন। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এই জয় সিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে দলটি। মৌসুমের শুরুতেই ছয় থেকে নয় পয়েন্টে পৌঁছে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে তারা।

অন্যদিকে হালান্ডও নতুন মৌসুমে নিজের দুর্দান্ত গোল-ফর্ম ধরে রেখেছেন। কোভেন্ট্রির বিপক্ষে তার গোল শুধু দলকে জয়ই এনে দেয়নি, ক্যারিয়ারের ৩০০তম ক্লাব গোলের মতো বিরল মাইলফলকও এনে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে এনজো ফার্নান্দেজের বহুল প্রতীক্ষিত অভিষেকের দিনটি শেষ পর্যন্ত হালান্ডের দিন হয়েই থাকল। এক গোলেই ৩০০ ক্লাব গোল এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিগে হেডে ২০ গোল—দুটি মাইলফলক স্পর্শ করে সিটির জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটিতে এনজোর অভিষেকে হালান্ডের দুই মাইলফলক

Update Time : ১০:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের। চেলসি থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড সমান করা ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কোভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে মাঠে নামেন তিনি।

তবে এনজোর অভিষেক ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ থাকলেও ম্যাচের মূল আলো কেড়ে নিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলেই কোভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেল সিটিজেনরা এবং ৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠেছে তারা।

এত গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ম্যাচে হালান্ড নিজেও ছুঁয়েছেন দুটি মাইলফলক। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৬ মিনিটে আঁতোয়ান সেমেনিওর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তিনি। আর সেই গোলই ক্লাব ফুটবলে তার ৩০০তম গোল। মাত্র ৩৮৪ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি

হালান্ডের মাইলফলক অবশ্য এখানেই শেষ নয়। হেডে করা গোলটি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিগে তার ২০তম হেডের গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে লিগে মাথার সাহায্যে ২০ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি পেছনে ফেলেছেন সিটির কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকে, যিনি লিগে হেডে ১৯ গোল করেছিলেন।

চেলসি থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পরই এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে তার দলবদলটি প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ট্রান্সফারগুলোর একটি। সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে তার অভিষেকও ছিল প্রত্যাশিত।

আরও পড়ুন  হ্যারি কেইন ফিরছেন ইংল্যান্ডে? তাঁর চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত

মূলত নিকো ও’রেইলির ওয়ার্ম-আপের সময় চোট পাওয়ার পর এনজোর শুরু থেকেই মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি ম্যাচের ৭৬ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। অভিষেকেই মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ার কাজে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন তিনি।

এনজোর অভিষেকের সঙ্গে আরেক নতুন মুখ ইলিমান এনদিয়ায়েও সিটির হয়ে মাঠে নামেন। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন হালান্ডই।

হালান্ডের গোলের পর ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কোভেন্ট্রি বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে সিটিকে এগিয়ে রাখেন। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

আরও পড়ুন  আজ টিভিতে যা দেখবেন

এই জয় সিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে দলটি। মৌসুমের শুরুতেই ছয় থেকে নয় পয়েন্টে পৌঁছে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে তারা।

অন্যদিকে হালান্ডও নতুন মৌসুমে নিজের দুর্দান্ত গোল-ফর্ম ধরে রেখেছেন। কোভেন্ট্রির বিপক্ষে তার গোল শুধু দলকে জয়ই এনে দেয়নি, ক্যারিয়ারের ৩০০তম ক্লাব গোলের মতো বিরল মাইলফলকও এনে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে এনজো ফার্নান্দেজের বহুল প্রতীক্ষিত অভিষেকের দিনটি শেষ পর্যন্ত হালান্ডের দিন হয়েই থাকল। এক গোলেই ৩০০ ক্লাব গোল এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিগে হেডে ২০ গোল—দুটি মাইলফলক স্পর্শ করে সিটির জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা।