ইতালি কোচ নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে ইতালিয়ান ফুটবলে। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ও তাঁর উপদেষ্টা লিওনার্দো পদত্যাগ করেছেন।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে তাঁদের প্রস্তাব করা নামগুলো গ্রহণ না করায় দুজনই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে আন্দ্রেয়া পিরলোর নাম রাজনৈতিক জটিলতার কারণে বাতিল হওয়ার পর।
এর আগে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলাকেও কোচ হিসেবে আনার চেষ্টা করেছিলেন মালদিনি, তবে দুজনই রাজি হননি।
পরে লিওনার্দো থিয়াগো মোত্তার নাম প্রস্তাব করলেও সেটিও গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইতালি জাতীয় দলের নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে হচ্ছে শূন্য থেকে।
ইতালি কোচ নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি এবং ব্রাজিলের সাবেক তারকা লিওনার্দো। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত ইতালিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশনের সভাপতি জোভান্নি মালাগোর কাছে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন মালদিনি ও লিওনার্দো। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় দলের টেকনিক্যাল পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ‘ক্লাব ইতালি’ প্রকল্পের নেতৃত্বও পান মালদিনি।
ঘটনার মূল সূত্রপাত কোচ নিয়োগ নিয়ে। মালদিনি প্রথমে অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে যোগাযোগ করা হয় পেপ গার্দিওলার সঙ্গেও। তবে দুজনই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। এরপর মালদিনির পছন্দের তালিকায় উঠে আসেন সাবেক সতীর্থ আন্দ্রেয়া পিরলো। জাতীয় দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় পিরলোর ফুটবল দর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন তিনি।
কিন্তু পিরলোর একটি রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের জেরে তাঁর নাম আর এগোয়নি। বিষয়টি মালদিনি ও লিওনার্দোর পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেয়। তাঁদের দাবি ছিল, কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফুটবলীয় দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় তাঁরা হতাশ হন।
পরবর্তী বৈঠকে লিওনার্দো থিয়াগো মোত্তার নামও সামনে আনেন। ক্লাব ফুটবলে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে তিনি মনে করেছিলেন, মোত্তা ইতালির জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সমর্থন পায়নি। একের পর এক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মালদিনি ও লিওনার্দো মনে করেন, তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। এরপরই তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এই পদত্যাগের ফলে ইতালির কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপের অন্যতম সফল ফুটবল জাতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ইতালি। তাই নতুন কোচ নির্বাচন এখন ফেডারেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত একজন যোগ্য কোচ নিয়োগ না দিতে পারলে ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতাগুলোর প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়তে পারে আজ্জুরিরা।


























