বিশ্বকাপ পুরস্কার নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল শেষ হলেই জানা যাবে শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নয়, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলরক্ষক এবং সেরা তরুণ ফুটবলারের নামও। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেওয়া এসব পুরস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে গোল্ডেন বুট। এবার এই লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই বিশ্বতারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন মেসি। তাঁর অ্যাসিস্ট ৪টি, যেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ৩টি। তাই বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মালিক কে হবেন।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসি ও এমবাপ্পের পাশাপাশি রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। তাঁর গোল ৭টি। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোল ৬টি করে। এছাড়া ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালও তালিকায় রয়েছেন। ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স হলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি গোল্ডেন বল। এটি দেওয়া হয় পুরো টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারকে। এবারও সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁর পাশাপাশি আলোচনায় আছেন স্পেনের রদ্রি, মিকেল ওইয়ারসাবাল, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে। এছাড়া ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার নামও উঠে এসেছে সম্ভাব্য তালিকায়।
গোলরক্ষকদের মধ্যে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনের উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ সেভ করে আলোচনায় এলেও তাঁর দল আগেই বিদায় নেওয়ায় সম্ভাবনা কিছুটা কমে গেছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, পর্তুগালের দিওগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল ও মরক্কোর ইয়াসিন বুনুও লড়াইয়ে আছেন।
তরুণ ফুটবলারদের জন্য থাকা ইয়াং প্লেয়ার পুরস্কার নিয়েও রয়েছে দারুণ উত্তেজনা। এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় স্পেনের দুই বিস্ময়কর প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। তাদের পাশাপাশি ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে, ইংল্যান্ডের নিকো ও’রাইলি এবং মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দিও সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এদিকে ফেয়ার প্লে পুরস্কার দেওয়া হবে সবচেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ দলকে। এবার স্পেন, ফ্রান্স ও নরওয়েকে সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠের আচরণ, ফাউল, কার্ড এবং খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব বিবেচনা করেই এই পুরস্কার নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে দর্শকদের ভোটে নির্ধারিত হবে টুর্নামেন্টসেরা গোল। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে করা সেরা ছয়টি গোল থেকে বেছে নেওয়া হবে বিজয়ী। এই তালিকায় রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ, জুড বেলিংহাম, হুলিয়ান আলভারেজ, পেদ্রো পোরো এবং এনজো ফার্নান্দেজ। ফাইনালের আগেই ভোট শেষ হবে এবং সেরা গোলের বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে এবার বিশ্বকাপ পুরস্কার নিয়ে উত্তেজনা শিরোপা লড়াইয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মেসি কি অ্যাসিস্টের সুবিধা ধরে রেখে গোল্ডেন বুট জিতবেন, নাকি এমবাপ্পে শেষ ম্যাচে সব হিসাব বদলে দেবেন—সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের বাঁশি বাজার পরই। একই সঙ্গে জানা যাবে গোল্ডেন বল, গোল্ডেন গ্লাভস, ইয়াং প্লেয়ার ও ফেয়ার প্লে পুরস্কারের নতুন মালিকদের নাম।




























