ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফিল ফোডেনের লাল কার্ডের পর দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় আর্সেনালের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। চার ম্যাচ শেষে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দলটি।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনা হালান্ডের জয়সূচক গোলকে ঘিরে। গোলের আগে এনজো ফের্নান্দেজ অফসাইড অবস্থানে থেকে খেলায় প্রভাব ফেলেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুরুতে অফসাইডের পতাকা উঠলেও পরে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির সহায়তায় হালান্ডকে অনসাইড ঘোষণা করা হয়।
এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রেফারি সংস্থা প্রো রেফ ওই সিদ্ধান্তে ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গোলের আগে ফের্নান্দেজের অবস্থান এবং খেলায় তার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় সিটি। ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ফিল ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। বল দিয়ে ব্রুনোর পেটে আঘাত লাগার পর পাল্টা লাথি মারেন ফোডেন।
ফোডেনের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েও ম্যাচের পর আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে ব্রুনো ফের্নান্দেজের আচরণ শাস্তিযোগ্য ছিল কি না, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফলে ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তেজনা মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
১০ জনের সিটির বিপক্ষে বাড়তি খেলোয়াড় নিয়ে খেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইউনাইটেড। মার্কাস র্যাশফোর্ড ও কোবি মাইনু দুজনই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাদের শট পোস্টে গিয়ে বাধা পায়।
অন্যদিকে সুযোগ পেয়ে সেটিই কাজে লাগান হালান্ড। পিছনের পোস্টে আসা বল জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলটি নিয়ে অফসাইড বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।
ম্যাচের শেষ দিকে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। ব্রায়ান এমবেউমোর একটি শটও গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুর্দান্ত সেভে সেই সুযোগও নষ্ট হয়।
১০ জন নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলার পরও জয় পাওয়ায় ম্যানচেস্টার সিটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে। তবে হালান্ডের গোল এবং ফোডেনের লাল কার্ড নিয়ে ম্যাচের পরও বিতর্ক চলতে থাকবে।























