ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ৩ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানোর পর ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের একাধিক হামলা সফলভাবে এড়িয়ে যায়। এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। এরপর ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালানো হয়।

সেন্টকমের তথ্যমতে, এম/টি ডাউনি নামের একটি তেলবাহী জাহাজকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে এবং এম/টি স্টার্ক-১-কে জাস্কের কাছে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত করে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তিনটি জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বড় তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই নেটওয়ার্ক থেকে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, মার্কিন বাহিনী নিজেদের সেনা ও জাহাজ রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। আইআরজিসিকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছিল, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে। তাদের স্থানীয় সূত্রের দাবি, জাহাজটিতে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। হামলার পর ট্যাংকারের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। ফলে এই এলাকায় তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার প্রাথমিক খবর প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেন্টকম তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার কথা নিশ্চিত করে।

এই হামলার ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। তাই এখানে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিমাণও বাড়ছে। মার্কিন বাহিনী বলছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযান ইরানের হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার সরাসরি ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও তেলবাহী জাহাজ সংঘাতের অংশ হয়ে উঠেছে। এতে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ৩ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

Update Time : ১০:১৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানোর পর ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের একাধিক হামলা সফলভাবে এড়িয়ে যায়। এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। এরপর ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালানো হয়।

সেন্টকমের তথ্যমতে, এম/টি ডাউনি নামের একটি তেলবাহী জাহাজকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে এবং এম/টি স্টার্ক-১-কে জাস্কের কাছে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত করে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাতে বাড়ল যুদ্ধের আশঙ্কা

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তিনটি জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বড় তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই নেটওয়ার্ক থেকে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, মার্কিন বাহিনী নিজেদের সেনা ও জাহাজ রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। আইআরজিসিকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছিল, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে। তাদের স্থানীয় সূত্রের দাবি, জাহাজটিতে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। হামলার পর ট্যাংকারের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  ইরানে পারমাণবিক হামলা? যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি

খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। ফলে এই এলাকায় তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার প্রাথমিক খবর প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেন্টকম তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার কথা নিশ্চিত করে।

এই হামলার ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। তাই এখানে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবন বিমান বিধস্ত

বর্তমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিমাণও বাড়ছে। মার্কিন বাহিনী বলছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযান ইরানের হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার সরাসরি ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও তেলবাহী জাহাজ সংঘাতের অংশ হয়ে উঠেছে। এতে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়তে পারে।