ইরানের হুমকি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দেম দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। তাঁর এই মন্তব্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইরানের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফারারু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোসেইন কানানি মোকাদ্দেম বলেন, যদি ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ইরানের পক্ষে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজন দেখা দিলে সেই সক্ষমতা ব্যবহার করতেও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
শুধু সামরিক হুমকিই নয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আইআরজিসির সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়। বরং ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়াই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
মোকাদ্দেম আরও দাবি করেন, ইরান কখনোই ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে আপসের রাজনীতি করছে না। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে কেবল উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রতিশোধের বিষয়টি এখনো ইরানের অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি এবং সেটি আলোচনার বাইরেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে আইআরজিসির সাবেক এই কর্মকর্তার বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে চলমান সংলাপের পাশাপাশি এমন প্রকাশ্য হুমকি ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।



























