ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ থামবে না, বললেন নেতানিয়াহু; বাড়ছে নতুন সংকট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত ।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে সামরিকভাবে শক্তিশালী থাকতে হবে এবং যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ নিউজকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। ইসরাইলে সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতায় শক্তি প্রদর্শনই ইসরাইলের নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে। এসব অভিযান ইসরাইলের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে কেউ ইরানে হামলা চালানোর সাহস দেখায়নি। তাঁর দাবি, ইসরাইল সেই ‘ভয়ের দেয়াল’ ভেঙে দিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু ‘নিশ্চিত বিজয়’-এর যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, তা এখনো অর্জন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ের কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে টিকে থাকতে হলে সব সময় শক্তিশালী থাকতে হয়। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে ইসরাইল অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল যে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে, তা অনেকেই বিশ্বাস করেননি। বক্তব্য শেষ করে তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে জানতে চান, কেউ কি হাততালি দেবেন না? এরপর স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকরা করতালি দেন।

গাজার বাসিন্দাদের দেশত্যাগের বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি ‘জোরপূর্বক নয়, স্বেচ্ছায় দেশান্তর’। তবে ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এই ভাষার ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরিবর্তে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক চাপের কথাও স্বীকার করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর দাবি, প্রতিটি ইস্যুতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়ানোর প্রয়োজন নেই এবং ইসরাইল নিজের কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ইসরাইলের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, ফিলিস্তিনি নাগরিকসহ কিছু গোষ্ঠীর ইসরাইলি সমাজে থাকার অধিকার নেই। ধর্মীয় স্কুলের ৫২ শতাংশ এবং ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলের ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই মতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ ও যুব সংগঠকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তরুণদের মানসিকতা বদলে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী আবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে আরবদের প্রতি ভয় ও অবিশ্বাসও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

হারেৎসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের অনেক তরুণ এখন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনায় আর বিশ্বাস করেন না। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিও তাদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট প্রকাশিত এক গবেষণায় যুদ্ধের ভয়াবহ মানসিক প্রভাবের চিত্র উঠে এসেছে। রাইখম্যান ইউনিভার্সিটির পরিচালিত এই গবেষণায় প্রায় আড়াই হাজার রিজার্ভ সেনার পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাত বছরের কম বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক আঘাত বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, রিজার্ভ সেনাদের ৭৫ শতাংশ শিশু প্রাথমিক পর্যায়ের মানসিক আঘাতে ভুগছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু গুরুতর পিটিএসডিতে আক্রান্ত।

শুধু শিশুরাই নয়, জরিপে অংশ নেওয়া বাবাদের ৩৫ শতাংশ এবং মায়েদের ৪২ শতাংশও বিভিন্ন মাত্রার মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে পুরো ইসরাইলি সমাজ এখন গভীর মানসিক সংকটের মুখোমুখি।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী কয়েক বছর এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা, বিছানা ভিজিয়ে ফেলা, সহিংস আচরণ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো উপসর্গ বাড়ছে। গবেষকদের ভাষায়, ইসরাইল বর্তমানে এক ধরনের ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুনামি’র মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ থামবে না, বললেন নেতানিয়াহু; বাড়ছে নতুন সংকট

Update Time : ০৭:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে সামরিকভাবে শক্তিশালী থাকতে হবে এবং যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ নিউজকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। ইসরাইলে সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতায় শক্তি প্রদর্শনই ইসরাইলের নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে। এসব অভিযান ইসরাইলের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে কেউ ইরানে হামলা চালানোর সাহস দেখায়নি। তাঁর দাবি, ইসরাইল সেই ‘ভয়ের দেয়াল’ ভেঙে দিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

আরও পড়ুন  ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু ‘নিশ্চিত বিজয়’-এর যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, তা এখনো অর্জন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ের কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে টিকে থাকতে হলে সব সময় শক্তিশালী থাকতে হয়। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে ইসরাইল অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল যে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে, তা অনেকেই বিশ্বাস করেননি। বক্তব্য শেষ করে তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে জানতে চান, কেউ কি হাততালি দেবেন না? এরপর স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকরা করতালি দেন।

গাজার বাসিন্দাদের দেশত্যাগের বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি ‘জোরপূর্বক নয়, স্বেচ্ছায় দেশান্তর’। তবে ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এই ভাষার ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরিবর্তে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর: লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

এদিকে আন্তর্জাতিক চাপের কথাও স্বীকার করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর দাবি, প্রতিটি ইস্যুতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়ানোর প্রয়োজন নেই এবং ইসরাইল নিজের কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ইসরাইলের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, ফিলিস্তিনি নাগরিকসহ কিছু গোষ্ঠীর ইসরাইলি সমাজে থাকার অধিকার নেই। ধর্মীয় স্কুলের ৫২ শতাংশ এবং ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলের ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই মতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ ও যুব সংগঠকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তরুণদের মানসিকতা বদলে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী আবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে আরবদের প্রতি ভয় ও অবিশ্বাসও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

হারেৎসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের অনেক তরুণ এখন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনায় আর বিশ্বাস করেন না। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিও তাদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত ইরান!

এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট প্রকাশিত এক গবেষণায় যুদ্ধের ভয়াবহ মানসিক প্রভাবের চিত্র উঠে এসেছে। রাইখম্যান ইউনিভার্সিটির পরিচালিত এই গবেষণায় প্রায় আড়াই হাজার রিজার্ভ সেনার পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাত বছরের কম বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক আঘাত বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, রিজার্ভ সেনাদের ৭৫ শতাংশ শিশু প্রাথমিক পর্যায়ের মানসিক আঘাতে ভুগছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু গুরুতর পিটিএসডিতে আক্রান্ত।

শুধু শিশুরাই নয়, জরিপে অংশ নেওয়া বাবাদের ৩৫ শতাংশ এবং মায়েদের ৪২ শতাংশও বিভিন্ন মাত্রার মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে পুরো ইসরাইলি সমাজ এখন গভীর মানসিক সংকটের মুখোমুখি।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী কয়েক বছর এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা, বিছানা ভিজিয়ে ফেলা, সহিংস আচরণ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো উপসর্গ বাড়ছে। গবেষকদের ভাষায়, ইসরাইল বর্তমানে এক ধরনের ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুনামি’র মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।