ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহুর এখন নতুন শত্রু দরকার’

হাকান ফিদানের সমালোচনার মুখে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর নির্বাচনের আগে এখন একটি নতুন শত্রু প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার দাবি অনুযায়ী, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে তুরস্ককে নতুন লক্ষ্যবস্তু বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ফিদান এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বর্তমানে তুরস্ক এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রকাশ্য সংঘাত বা যুদ্ধে জড়ানোর যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। তবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার অতি ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের যত কাছাকাছি যাচ্ছেন, ততই তাদের নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি কল্পিত শত্রুর প্রয়োজন তীব্র হয়ে উঠছে।

হাকান ফিদানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধ বা সংঘাতের আবহ তৈরি করার পর তারা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি শত্রু খুঁজছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে নিজেদের প্রতি সহানুভূতি আদায় করা এবং আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পথ সুগম করা।

সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্য এক বিবৃতিতে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মূলত ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চান। নেতানিয়াহুর সেই ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই আজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাল্টা এই মন্তব্য করলেন তুরস্কের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটাবস্থার মধ্যে তুরস্কের সাথে ইসরায়েলের এই নতুন বাকযুদ্ধ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে প্রতিনিয়ত নতুন কোনো পক্ষকে শত্রুর তালিকায় তুলছেন, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশারদেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহুর এখন নতুন শত্রু দরকার’

Update Time : ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর নির্বাচনের আগে এখন একটি নতুন শত্রু প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার দাবি অনুযায়ী, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে তুরস্ককে নতুন লক্ষ্যবস্তু বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ফিদান এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বর্তমানে তুরস্ক এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রকাশ্য সংঘাত বা যুদ্ধে জড়ানোর যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। তবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার অতি ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের যত কাছাকাছি যাচ্ছেন, ততই তাদের নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি কল্পিত শত্রুর প্রয়োজন তীব্র হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন  ‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান

হাকান ফিদানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধ বা সংঘাতের আবহ তৈরি করার পর তারা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি শত্রু খুঁজছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে নিজেদের প্রতি সহানুভূতি আদায় করা এবং আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পথ সুগম করা।

আরও পড়ুন  টাইমস পিআর সেবা চালু: আন্তর্জাতিক পিআর ও মিডিয়া সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্য এক বিবৃতিতে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মূলত ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চান। নেতানিয়াহুর সেই ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই আজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাল্টা এই মন্তব্য করলেন তুরস্কের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটাবস্থার মধ্যে তুরস্কের সাথে ইসরায়েলের এই নতুন বাকযুদ্ধ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে প্রতিনিয়ত নতুন কোনো পক্ষকে শত্রুর তালিকায় তুলছেন, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশারদেরা।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত ইরান!