মার্তিনেজ ট্রান্সফার নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে দলে নিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইতালির অন্যতম সফল ক্লাব জুভেন্টাস। অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে যেতে নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। প্রস্তাবে নিশ্চিত ৭০ লাখ ইউরোর পাশাপাশি আরও ৩০ লাখ ইউরো বোনাস রাখার কথা জানা গেছে।
অ্যাস্টন ভিলা অবশ্য মার্তিনেজকে ছাড়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি ইউরো দাবি করছে। জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাবের কাঠামো সেই অঙ্কের কাছাকাছি হলেও পুরো অর্থ একবারে দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট অংশ নিশ্চিত ফি এবং বাকিটা বোনাস হিসেবে দিতে চায় ইতালিয়ান ক্লাবটি। এতে তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। তবে দুই ক্লাবের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
মার্তিনেজ ট্রান্সফার আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হলো আর্জেন্টাইন গোলকিপারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা। বিশ্বকাপের সময় থেকে ডান হাতের রিং ফিঙ্গারে চোটের সমস্যা রয়েছে তার। এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় জুভেন্টাসকে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে একজন গোলকিপারকে দলে নেওয়ার আগে তার ফিটনেস নিয়ে নিশ্চিত হতে চায় ক্লাবটি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্তিনেজের বয়স। ৩৩ বছর বয়সি এই গোলকিপার নিঃসন্দেহে অভিজ্ঞ এবং বড় ম্যাচে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পেনাল্টি শুটআউটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং চাপের মুহূর্তে অসাধারণ সেভ তাকে বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একজন ৩৩ বছর বয়সি গোলরক্ষকের পেছনে বড় অর্থ ব্যয় করা নিয়ে জুভেন্টাসের ভেতরে প্রশ্ন রয়েছে।
জুভেন্টাসের আর্থিক পরিস্থিতিও এই আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে প্রত্যাশামতো সাফল্য না পাওয়ার কারণে ক্লাবটি এখন দলবদলে তুলনামূলক সতর্ক। একবারে ১ কোটি ইউরো খরচ করার বদলে তারা এমন একটি চুক্তি চায়, যেখানে পারফরম্যান্স ও অন্যান্য শর্ত পূরণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা যাবে। নতুন প্রস্তাবের ৭০ লাখ ইউরো নিশ্চিত ফি এবং ৩০ লাখ ইউরোর বোনাস কাঠামো মূলত সেই পরিকল্পনারই অংশ।
অন্যদিকে মার্তিনেজকে হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে অ্যাস্টন ভিলাও। কোচ উনাই এমেরি গোলপোস্টের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প খুঁজছেন। জাপানের গোলকিপার জিওন সুজুকিকে তাদের পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর সঙ্গে ওই খেলোয়াড়ের দলবদল আলোচনা আটকে যাওয়ায় ভিলার পরিকল্পনায় তার নাম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্তিনেজ শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছাড়লে সুজুকিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে মার্তিনেজের সম্ভাব্য বিদায় এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং দলের গোলপোস্টে তার গুরুত্ব বিবেচনা করলে ক্লাবটি সহজে তাকে ছেড়ে দিতে চাইবে না। অন্যদিকে জুভেন্টাসও একজন অভিজ্ঞ ও বড় ম্যাচে পরীক্ষিত গোলকিপারকে দলে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। ফলে আগামী কয়েক দিনের আলোচনা এই দলবদলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মার্তিনেজ ট্রান্সফার সফল হলে জুভেন্টাসের গোলপোস্টে অভিজ্ঞতার বড় সংযোজন হবে। ইউরোপের বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো প্রতিযোগিতায় একজন আত্মবিশ্বাসী গোলকিপার দলের পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারেন। তবে বয়স, চোট এবং আর্থিক বিষয়—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে জুভেন্টাস শেষ পর্যন্ত অন্য বিকল্পও বিবেচনা করতে পারে।
অ্যাস্টন ভিলার জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মার্তিনেজ চলে গেলে শুধু একজন গোলকিপার নয়, একজন অভিজ্ঞ নেতা ও বড় ম্যাচের পারফর্মারকে হারাতে হবে। তাই তার বিকল্প হিসেবে সুজুকিকে আনার পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিও নজরে থাকবে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে দুই ক্লাবের জন্যই গোলকিপার পজিশন এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক দিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। জুভেন্টাস নতুন প্রস্তাব দিয়ে তাদের আগ্রহ স্পষ্ট করেছে, অ্যাস্টন ভিলাও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবছে। এখন দেখার বিষয়, দুই ক্লাব অর্থের ব্যবধান ও অন্যান্য শর্তে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না। চুক্তি হলে এটি নতুন মৌসুমের অন্যতম আলোচিত গোলকিপার ট্রান্সফার হয়ে উঠতে পারে।



























