ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি? Logo ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের বড় পরিবর্তন, শিশু গোপনীয়তা মামলায় মেটার বিপদ Logo ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ছাড়বে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ট্রান্সফারে বড় সিদ্ধান্ত Logo চিকিৎসক না হয়েও চোখের চিকিৎসা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর ব্যবস্থা Logo শেষ ইনকা নগরীর চমকপ্রদ রহস্য, হারানো ভিলকাবাম্বা কীভাবে খুঁজে পেলেন ‘রিয়েল ইন্ডিয়ানা জোন্স’

ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপসিকাম শুধু খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ায় না, এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে ক্যাপসিকাম রাখা উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একক খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না।

কাঁচা অবস্থায় ক্যাপসিকামের রং সাধারণত সবুজ থাকে। পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর রং হলুদ, কমলা কিংবা লালে পরিবর্তিত হয়। এ সময় এর কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানের পরিমাণও বদলে যায়। লাল ক্যাপসিকামে ক্যাপসানথিন, ক্যাপসোরুবিন ও লাইকোপেনের মতো ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। অন্যদিকে হলুদ ক্যাপসিকামে লুটেইন ও ভায়োলাক্সান্থিনের মতো উপাদান থাকে।

এসব উপাদানের বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি হলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার সেই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ক্যাপসিকাম খাওয়াকে ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

ক্যাপসিকাম খাওয়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি তাপে রান্না করলে এতে থাকা ভিটামিন সি-এর মতো কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা সালাদ, হালকা ভাপে কিংবা অল্প তেলে দ্রুত রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। ক্যাপসিকামের কিছু ক্যারোটিনয়েড শরীরে শোষিত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর চর্বি সহায়ক হতে পারে। এজন্য সামান্য অলিভ অয়েল বা অন্য স্বাস্থ্যকর তেলের সঙ্গে এটি খাওয়া যেতে পারে।

ক্যাপসিকাম শুধু আলাদা সবজি হিসেবে নয়, ডাল, ছোলা, সালাদ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও যোগ করা যায়। এতে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিমান দুটোই বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন শরীরে শোষণে সহায়তা করে। তাই ডাল, ছোলা বা পালং শাকের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ক্যাপসিকাম রাখা একটি ভালো খাদ্যাভ্যাস হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপানসহ ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ক্যাপসিকাম হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি উপকারী অংশ, কিন্তু এটি কোনো রোগের নিশ্চিত প্রতিরোধ বা চিকিৎসা নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে

ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

Update Time : ০৯:৩২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ক্যাপসিকাম শুধু খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ায় না, এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে ক্যাপসিকাম রাখা উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একক খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না।

কাঁচা অবস্থায় ক্যাপসিকামের রং সাধারণত সবুজ থাকে। পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর রং হলুদ, কমলা কিংবা লালে পরিবর্তিত হয়। এ সময় এর কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানের পরিমাণও বদলে যায়। লাল ক্যাপসিকামে ক্যাপসানথিন, ক্যাপসোরুবিন ও লাইকোপেনের মতো ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। অন্যদিকে হলুদ ক্যাপসিকামে লুটেইন ও ভায়োলাক্সান্থিনের মতো উপাদান থাকে।

আরও পড়ুন  ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার: দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায়

এসব উপাদানের বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ চাপ তৈরি হলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার সেই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ক্যাপসিকাম খাওয়াকে ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

ক্যাপসিকাম খাওয়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি তাপে রান্না করলে এতে থাকা ভিটামিন সি-এর মতো কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা সালাদ, হালকা ভাপে কিংবা অল্প তেলে দ্রুত রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। ক্যাপসিকামের কিছু ক্যারোটিনয়েড শরীরে শোষিত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর চর্বি সহায়ক হতে পারে। এজন্য সামান্য অলিভ অয়েল বা অন্য স্বাস্থ্যকর তেলের সঙ্গে এটি খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন  বর্ষায় ইমিউনিটি বাড়াতে ৫ পুষ্টিকর সালাদের আইডিয়া

ক্যাপসিকাম শুধু আলাদা সবজি হিসেবে নয়, ডাল, ছোলা, সালাদ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও যোগ করা যায়। এতে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিমান দুটোই বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন শরীরে শোষণে সহায়তা করে। তাই ডাল, ছোলা বা পালং শাকের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ক্যাপসিকাম রাখা একটি ভালো খাদ্যাভ্যাস হতে পারে।

আরও পড়ুন  বয়স ৩৫! এখন থেকেই যত্ন নিলে দীর্ঘদিন থাকবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত

সব মিলিয়ে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপানসহ ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ক্যাপসিকাম হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি উপকারী অংশ, কিন্তু এটি কোনো রোগের নিশ্চিত প্রতিরোধ বা চিকিৎসা নয়।