হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হলেও ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। এদিকে, হরমুজ নিয়ে কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরেছে; প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে।
পাল্টাপাল্টি অবস্থান: আরাগচি বনাম ট্রাম্প
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার এই ঘোষণা দেন।
-
ইরানের বক্তব্য: পোস্টে আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকুতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াতের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুটে নৌযানগুলো চলাচল করবে।
-
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা: আরাগচির এই ঘোষণার পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “হরমুজ প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রস্তুত। তবে ইরানের ক্ষেত্রে নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল ও কার্যকর থাকবে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বজায় থাকবে, যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে।”
সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পটভূমি
-
হামলা ও যুদ্ধবিরতি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর কয়েক দিন পর, ২ মার্চ থেকে লেবাননেও তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর গত ৮ মার্চ ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যার মেয়াদ আগামী ২১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
-
ব্যর্থ আলোচনা: ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চুক্তি চূড়ান্ত করতে গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা প্রায় ২১ ঘণ্টা সরাসরি আলোচনা করেন। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের কারণে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
জ্বালানি বাজার ও মার্কিন অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।
-
অর্থনৈতিক প্রভাব: যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রবল অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হয়।
-
অবরোধ ও নতুন সম্ভাবনা: ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের সব বন্দরে কড়া নৌ-অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বন্দর অবরোধের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, আজ ভোরে লেবাননেও ১০ দিনের জন্য নতুন একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।



























