ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেভিড হকনি: কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনাবসান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৫০৪

বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ডেভিড হকনির শিল্পকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

ডেভিড হকনি, সমসাময়িক শিল্পজগতের অন্যতম প্রভাবশালী নাম, আর নেই। ৮৮ বছর বয়সে লন্ডনের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই খ্যাতিমান ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ডেভিড হকনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক শিল্প আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বিশেষ করে পপ আর্ট ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের সৃষ্টিশীলতা ও স্বতন্ত্র শিল্পভাবনার মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন ডেভিড হকনি। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে ব্র্যাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট এবং লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্টে পড়াশোনা করে তিনি শিল্পজগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার কাজ সমালোচক ও শিল্পবোদ্ধাদের নজর কাড়তে শুরু করে।

ষাটের দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ডেভিড হকনি। তার চিত্রকর্মে আধুনিক জীবনের নানা দিক, মানুষের অনুভূতি এবং রঙের সাহসী ব্যবহার বিশেষভাবে ফুটে উঠত। শিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার শিল্পজীবনের অন্যতম আলোচিত সাফল্য আসে ২০১৮ সালে। তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘Portrait of an Artist’ নিলামে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। সেই সময় জীবিত কোনো শিল্পীর কাজ হিসেবে এটি ছিল রেকর্ডমূল্যের বিক্রয়। এই অর্জন তার জনপ্রিয়তা ও শিল্পমূল্যের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন ডেভিড হকনি। বয়স তার সৃষ্টিশীলতাকে কখনো থামাতে পারেনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার বলেছেন, ছবি আঁকার মধ্যেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ খুঁজে পান। নিজের কাজ নিয়ে মানুষের মতামতের চেয়ে নিজের অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন তিনি।

শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য সরকার তাকে ‘Companion of Honour’ উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে তিনি ফ্রান্সের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও লাভ করেন। আন্তর্জাতিক শিল্প অঙ্গনে তার প্রভাব ছিল অসাধারণ।

তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিল্প ইতিহাসবিদ, সমালোচক এবং সহশিল্পীরা তাকে আধুনিক শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, শিল্পকে নতুনভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছিলেন ডেভিড হকনি।

রয়্যাল কলেজ অব আর্ট জানিয়েছে, হকনি ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি সারাজীবন নিজের সৃজনশীল অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পম্পিদো সেন্টার বলেছে, তার শিল্পকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ডেভিড হকনির বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিল্পাঙ্গন হারালো এক অনন্য প্রতিভাকে। তবে তার আঁকা ছবি, শিল্পদর্শন এবং সৃষ্টিশীল চিন্তা আগামী বহু বছর ধরে শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে। শিল্পের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেভিড হকনি: কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনাবসান

Update Time : ০৫:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ডেভিড হকনি, সমসাময়িক শিল্পজগতের অন্যতম প্রভাবশালী নাম, আর নেই। ৮৮ বছর বয়সে লন্ডনের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই খ্যাতিমান ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ডেভিড হকনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক শিল্প আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বিশেষ করে পপ আর্ট ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের সৃষ্টিশীলতা ও স্বতন্ত্র শিল্পভাবনার মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন ডেভিড হকনি। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে ব্র্যাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট এবং লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্টে পড়াশোনা করে তিনি শিল্পজগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার কাজ সমালোচক ও শিল্পবোদ্ধাদের নজর কাড়তে শুরু করে।

আরও পড়ুন  ইজরাইলি হামলায় নিহত দিপালির লাশ দেশে, কান্নায় স্বজনরা

ষাটের দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ডেভিড হকনি। তার চিত্রকর্মে আধুনিক জীবনের নানা দিক, মানুষের অনুভূতি এবং রঙের সাহসী ব্যবহার বিশেষভাবে ফুটে উঠত। শিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার শিল্পজীবনের অন্যতম আলোচিত সাফল্য আসে ২০১৮ সালে। তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘Portrait of an Artist’ নিলামে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। সেই সময় জীবিত কোনো শিল্পীর কাজ হিসেবে এটি ছিল রেকর্ডমূল্যের বিক্রয়। এই অর্জন তার জনপ্রিয়তা ও শিল্পমূল্যের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা! হরমুজ প্রণালি বন্ধে অনড় ইরান, বাড়ছে তেল সংকটের শঙ্কা

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন ডেভিড হকনি। বয়স তার সৃষ্টিশীলতাকে কখনো থামাতে পারেনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার বলেছেন, ছবি আঁকার মধ্যেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ খুঁজে পান। নিজের কাজ নিয়ে মানুষের মতামতের চেয়ে নিজের অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন তিনি।

শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য সরকার তাকে ‘Companion of Honour’ উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে তিনি ফ্রান্সের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও লাভ করেন। আন্তর্জাতিক শিল্প অঙ্গনে তার প্রভাব ছিল অসাধারণ।

তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিল্প ইতিহাসবিদ, সমালোচক এবং সহশিল্পীরা তাকে আধুনিক শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, শিল্পকে নতুনভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছিলেন ডেভিড হকনি।

আরও পড়ুন  তথ্য পাচারের অভিযোগে ইরানে ৫০ জন আটক

রয়্যাল কলেজ অব আর্ট জানিয়েছে, হকনি ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি সারাজীবন নিজের সৃজনশীল অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পম্পিদো সেন্টার বলেছে, তার শিল্পকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ডেভিড হকনির বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিল্পাঙ্গন হারালো এক অনন্য প্রতিভাকে। তবে তার আঁকা ছবি, শিল্পদর্শন এবং সৃষ্টিশীল চিন্তা আগামী বহু বছর ধরে শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে। শিল্পের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।