ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫৫

দুই মাস ধরে সঞ্চয়পত্রে ভাঙানোর চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে নেতিবাচক অবস্থায় থাকার পর জাতীয় সঞ্চয়পত্র খাতে আবারও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে এসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের আয় আগের পরিশোধের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। টানা দুই মাস ধরে নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ছাড়িয়েছে আসল ও সুদ বাবদ ফেরত দেওয়া অর্থকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর অর্থ হলো, ওই মাসে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ এসেছে, তার তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ কম ছিল। এর আগে এপ্রিল মাসেও নিট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও শেষ দিকে এসে এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। সেই জায়গা থেকে অনেকেই আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

তারা বলছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বাড়লেও অনেক গ্রাহকের মধ্যে পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি। অন্যদিকে শেয়ারবাজারেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না থাকায় কম ঝুঁকির বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে।

এ ছাড়া, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারের নিট ঋণ নেতিবাচক ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি হওয়ায় সরকারের নিট পরিশোধ ছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। তবে বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এ খাত থেকে সরকার আবারও নিট ঋণ নিতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ

Update Time : ১১:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ সময় ধরে নেতিবাচক অবস্থায় থাকার পর জাতীয় সঞ্চয়পত্র খাতে আবারও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে এসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের আয় আগের পরিশোধের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। টানা দুই মাস ধরে নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ছাড়িয়েছে আসল ও সুদ বাবদ ফেরত দেওয়া অর্থকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর অর্থ হলো, ওই মাসে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ এসেছে, তার তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ কম ছিল। এর আগে এপ্রিল মাসেও নিট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন  জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও শেষ দিকে এসে এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। সেই জায়গা থেকে অনেকেই আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন  বাংলা কিউআর দারুণ সাড়া, দুই দিনেই কোটি টাকার লেনদেন

তারা বলছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বাড়লেও অনেক গ্রাহকের মধ্যে পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি। অন্যদিকে শেয়ারবাজারেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না থাকায় কম ঝুঁকির বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে।

এ ছাড়া, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারের নিট ঋণ নেতিবাচক ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি হওয়ায় সরকারের নিট পরিশোধ ছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন  ১৯ দিনে দেশে এলো ২৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। তবে বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এ খাত থেকে সরকার আবারও নিট ঋণ নিতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।