ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার এই সৌজন্যপূর্ণ আলাপচারিতায় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই নেতা অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠকে এসব ইস্যুই প্রাধান্য পেতে পারে।
জানা গেছে, ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, গাজা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও দুই পক্ষ বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি, তবে শিগগিরই ওয়াশিংটনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের সমর্থনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে দুই দেশের সমন্বিত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য বৈঠকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মি মুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশলও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। সে সময় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর এবং আব্রাহাম চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান ফোনালাপ সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



























