ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: আড়াই শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

  • Afroza Joba
  • Update Time : ০২:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রাণহানির শঙ্কা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারটিতে থাকা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকাংশেরই প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন। পরে তাদের কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক রফিকুল ইসলাম জানান এক লোমহর্ষক কাহিনী। চাকরির প্রলোভনে তাকে কুতুপালং থেকে নিয়ে গিয়ে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। গত ৪ এপ্রিল তাদের বড় একটি ট্রলারে তোলা হয়, যেখানে ১৩ জন পাচারকারীসহ মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮০ জন। এদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

রফিকুলের বর্ণনা মতে, ৮ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছালে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। পাচারকারীরা যাত্রীদের জোর করে মাছ রাখার সংকীর্ণ স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টে ঢুকিয়ে দিলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সেখানেই ২৫-৩০ জন মারা যান। পরবর্তীতে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অধিকাংশ যাত্রীই নিখোঁজ হন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের ওপর চাপ কমাতে দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন না হওয়ায় হতাশ হয়ে তারা এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: আড়াই শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

Update Time : ০২:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারটিতে থাকা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকাংশেরই প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন। পরে তাদের কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক রফিকুল ইসলাম জানান এক লোমহর্ষক কাহিনী। চাকরির প্রলোভনে তাকে কুতুপালং থেকে নিয়ে গিয়ে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। গত ৪ এপ্রিল তাদের বড় একটি ট্রলারে তোলা হয়, যেখানে ১৩ জন পাচারকারীসহ মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮০ জন। এদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

রফিকুলের বর্ণনা মতে, ৮ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছালে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। পাচারকারীরা যাত্রীদের জোর করে মাছ রাখার সংকীর্ণ স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টে ঢুকিয়ে দিলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সেখানেই ২৫-৩০ জন মারা যান। পরবর্তীতে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অধিকাংশ যাত্রীই নিখোঁজ হন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের ওপর চাপ কমাতে দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন না হওয়ায় হতাশ হয়ে তারা এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।