ফরিদপুর হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সজীব মাতুব্বরকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরদিনই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন ২০ বছর বয়সী সুমন শেখ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরকে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি অনিবার্য কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে। জেলা কমিটির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। সর্বশেষ হত্যা মামলায় দলের এক নেতার নাম আসায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম (বাবুল) নিহত সুমনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং কবর জিয়ারত করেন। তিনি বলেন, এই হত্যা মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। তাঁর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসে।



























