কেন্দুয়ায় ৩ মাদকসেবীর কারাদণ্ড—নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য সেবন ও সংরক্ষণের দায়ে তিন ব্যক্তিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি পরিত্যক্ত বসতঘর থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আটক তিনজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুণ্ডলী গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬), একই গ্রামের মৃত আসর উদ্দিনের ছেলে ফজলু তালুকদার (৫০) এবং কেন্দুয়া পৌরসভার বাদে আঠারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল রহিমের ছেলে মো. সায়েম (৪৩)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাস্টারপাড়া এলাকার রামলাল রবিদাসের নিজ দখলীয় একটি পরিত্যক্ত বসতঘর দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে মাদক সেবন ও মাদক সংরক্ষণের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন বলেন, “মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, পরিত্যক্ত বাড়ি ও নির্জন স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যেই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে এসব স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাদকের আসর বন্ধ হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।




























