সামান্থা সিনেমা এবার শুধু দর্শকের প্রশংসাই নয়, বক্স অফিসেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির পর থেকেই মা ইনতি বাঙ্গারাম দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তেলেগু চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয় করা নারীপ্রধান সিনেমার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। ছবিটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করেছিলেন অভিনেত্রী ও প্রযোজক সামান্থা রুথ প্রভু। এই তথ্য প্রকাশের পর ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।
পরিচালক বি. ভি. নন্দিনী রেড্ডি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ছবির শুটিং চলাকালেই সামান্থা জানতে পারেন যে তিনি মা হতে চলেছেন। সেই সময় ‘থাস্সাদিয়া’ গানের জটিল নাচের দৃশ্য এবং একটি কার চেজ দৃশ্যের কাজ বাকি ছিল। তবে সবচেয়ে কঠিন শারীরিক অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর বড় অংশ আগেই ধারণ করা হয়েছিল। এরপর পুরো শুটিং পরিকল্পনাই নতুন করে সাজানো হয়, যাতে অভিনেত্রীর স্বাস্থ্য কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের প্রতিটি ধাপে সামান্থার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত গরমে শুটিং এড়িয়ে যাওয়া, নিয়মিত বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসতর্কতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফলে তিনি অপ্রয়োজনীয় শারীরিক চাপ ছাড়াই বাকি দৃশ্যগুলো সফলভাবে শেষ করতে সক্ষম হন। নির্মাতা দলের এই সচেতন পরিকল্পনাই পুরো কাজকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।
নন্দিনী রেড্ডির মতে, সামান্থা কেবল জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সুপারস্টার। অভিনয়, আবেগ, হাস্যরস, অ্যাকশন কিংবা নাচ—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। পরিচালকের দাবি, পুরো টিমের লক্ষ্য ছিল দর্শকদের সামনে সামান্থাকে তাঁর সেরা রূপে উপস্থাপন করা। দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার মনোভাবের কারণে শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সামান্থার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্পও। ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদ এবং পরে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে কিছু সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর মুক্তি পাওয়া কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। অসুস্থতা কাটিয়ে এবং পরে গর্ভাবস্থার মধ্যেও নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ধরে রেখেছেন। সেই অধ্যবসায়ের ফল হিসেবেই মা ইনতি বাঙ্গারাম আজ নতুন রেকর্ডের মালিক।
বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ইতোমধ্যে ৮০ কোটির রুপির বেশি ছাড়িয়েছে, যা তেলেগু সিনেমার ইতিহাসে নারীপ্রধান চলচ্চিত্রের নতুন মাইলফলক। প্রায় ২০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ছবিটি মুক্তির আগেই স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ তুলে আনে। ২০২৫ সালে পরিচালক-লেখক রাজ নিধিমুরুকে বিয়ে করা সামান্থা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, শিগগিরই তিনি মাতৃত্বকালীন বিরতিতে যাবেন। তবে এই সিনেমার সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।


























