ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার নিয়েও আপস করতে প্রস্তুত ছিলেন নিকোল কিডম্যান

টম ক্রুজের সঙ্গে দাম্পত্যজীবনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন নিকোল কিডম্যান। ছবি: সংগৃহীত

নিকোল কিডম্যান টম ক্রুজকে ভালোবেসে বিয়ে করার সময় ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। বড় তারকার স্ত্রী হয়ে গেলে নিজের অভিনয়জীবন আড়ালে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু তখন ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ভোগের ব্রিটিশ সংস্করণের সেপ্টেম্বর সংখ্যার সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সময়, টম ক্রুজের সঙ্গে বিয়ে এবং পরবর্তী বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

১৯৯০ সালে ডেজ অব থান্ডার সিনেমার সেটে টম ক্রুজের সঙ্গে পরিচয় হয় নিকোলের। কাজের সূত্রে পরিচয় দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয়। একই বছরের বড়দিনের আগের দিন তাঁরা বিয়ে করেন। তখন নিকোলের বয়স ছিল মাত্র ২২ বা ২৩ বছর। অল্প বয়সেই বিশ্বের অন্যতম বড় তারকার স্ত্রী হয়ে যাওয়াকে তিনি তখন অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখেননি। বরং দুজনের গভীর ভালোবাসার কারণেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কাছে তখন ক্যারিয়ারের চেয়ে ব্যক্তিগত ভালোবাসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিয়ের পর পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় নিকোলকে তাঁর নিজের পরিচয়ের বদলে টম ক্রুজের স্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হতে থাকে। বন্ধুদের কেউ কেউ তখন আগের সতর্কবার্তার কথাও মনে করিয়ে দিতেন। কিন্তু নিকোল সেসব নিয়ে খুব একটা বিচলিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে প্রয়োজন হলে সেই সম্পর্কের জন্য ক্যারিয়ারেও ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে ভালোবাসার সম্পর্কই ছিল জীবনের প্রধান বিষয়।

প্রায় এক দশক সংসার করার পর ২০০১ সালে টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যানের বিচ্ছেদ হয়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা এলেও অভিনয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন নিকোল। ২০০৩ সালে দ্য আওয়ার্স সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে সংগীতশিল্পী কিথ আরবানকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসার দীর্ঘ ১৯ বছর চলার পর গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে আবারও বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয় অভিনেত্রীকে।

দ্বিতীয় বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিকোল জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত এই পরিবর্তন তাঁকে গভীর অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে ফেলেছিল। জীবনের এমন একটি পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে দুর্বলও অনুভব করেছেন। তবে সেই অবস্থায় নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বদলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর উপলব্ধি, জীবনে বড় পরিবর্তন এলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক হলেও আশাকে ধরে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনেও সেই মানসিক শক্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

টম ক্রুজের সঙ্গে অল্প বয়সের প্রেম ও বিয়ে থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ, অস্কার জয় এবং পরবর্তী দাম্পত্যজীবন—নিকোল কিডম্যানের জীবন নানা বাঁকে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়ার কথাও ভাবতে রাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের পেশাগত পরিচয় আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়েও ভয়কে পাশে রেখে আশার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেটিই এখন তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার নিয়েও আপস করতে প্রস্তুত ছিলেন নিকোল কিডম্যান

Update Time : ০২:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিকোল কিডম্যান টম ক্রুজকে ভালোবেসে বিয়ে করার সময় ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। বড় তারকার স্ত্রী হয়ে গেলে নিজের অভিনয়জীবন আড়ালে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু তখন ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ভোগের ব্রিটিশ সংস্করণের সেপ্টেম্বর সংখ্যার সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সময়, টম ক্রুজের সঙ্গে বিয়ে এবং পরবর্তী বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

১৯৯০ সালে ডেজ অব থান্ডার সিনেমার সেটে টম ক্রুজের সঙ্গে পরিচয় হয় নিকোলের। কাজের সূত্রে পরিচয় দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয়। একই বছরের বড়দিনের আগের দিন তাঁরা বিয়ে করেন। তখন নিকোলের বয়স ছিল মাত্র ২২ বা ২৩ বছর। অল্প বয়সেই বিশ্বের অন্যতম বড় তারকার স্ত্রী হয়ে যাওয়াকে তিনি তখন অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখেননি। বরং দুজনের গভীর ভালোবাসার কারণেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কাছে তখন ক্যারিয়ারের চেয়ে ব্যক্তিগত ভালোবাসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন  টেইলর সুইফট বিয়ে নিয়ে রহস্য, কেন নীরব তারকা জুটি

বিয়ের পর পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় নিকোলকে তাঁর নিজের পরিচয়ের বদলে টম ক্রুজের স্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হতে থাকে। বন্ধুদের কেউ কেউ তখন আগের সতর্কবার্তার কথাও মনে করিয়ে দিতেন। কিন্তু নিকোল সেসব নিয়ে খুব একটা বিচলিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে প্রয়োজন হলে সেই সম্পর্কের জন্য ক্যারিয়ারেও ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে ভালোবাসার সম্পর্কই ছিল জীবনের প্রধান বিষয়।

প্রায় এক দশক সংসার করার পর ২০০১ সালে টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যানের বিচ্ছেদ হয়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা এলেও অভিনয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন নিকোল। ২০০৩ সালে দ্য আওয়ার্স সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে সংগীতশিল্পী কিথ আরবানকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসার দীর্ঘ ১৯ বছর চলার পর গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে আবারও বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয় অভিনেত্রীকে।

আরও পড়ুন  আমির খানের বিয়ে নিয়ে বড় ঘোষণা: গৌরী স্প্র্যাটের সাথে নতুন ইনিংস

দ্বিতীয় বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিকোল জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত এই পরিবর্তন তাঁকে গভীর অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে ফেলেছিল। জীবনের এমন একটি পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে দুর্বলও অনুভব করেছেন। তবে সেই অবস্থায় নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বদলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর উপলব্ধি, জীবনে বড় পরিবর্তন এলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক হলেও আশাকে ধরে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনেও সেই মানসিক শক্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

আরও পড়ুন  মুক্তির প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ার পথে ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’!

টম ক্রুজের সঙ্গে অল্প বয়সের প্রেম ও বিয়ে থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ, অস্কার জয় এবং পরবর্তী দাম্পত্যজীবন—নিকোল কিডম্যানের জীবন নানা বাঁকে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়ার কথাও ভাবতে রাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের পেশাগত পরিচয় আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়েও ভয়কে পাশে রেখে আশার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেটিই এখন তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।