স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্ব বক্স অফিসে আলোড়ন তুলেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দিনে প্রিভিউসহ ১৬ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করতে পারে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে প্রথম দিনের আয়ের দিক থেকে মার্ভেলের বহুল আলোচিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বে ছবিটি। ফলে মুক্তির শুরু থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের নজর এখন এই সুপারহিরো ছবির দিকে।
শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার ৪ হাজার ৪৮৭টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ৩৩ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। এমনটি হলে এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের সিনেমা হবে। বর্তমানে এই অবস্থানে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’, যার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয় ছিল ২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।
তবে সবচেয়ে বড় আলোচনা ঘুরছে আরেকটি সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দর্শকের আগ্রহ একইভাবে বজায় থাকলে ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর ৩৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারের ঐতিহাসিক রেকর্ডও অতিক্রম করতে পারে। যদিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্স এখনই এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। শুক্রবারের মূল আয়ের হিসাব ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি ডলারের মধ্যে থাকলে তিন দিনে ছবিটির মোট আয় প্রায় ৩৪২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ছবিটির আরেকটি বড় সাফল্য এসেছে প্রিভিউ প্রদর্শনীতে। বুধবারের বিশেষ প্রদর্শনী এবং বৃহস্পতিবারের প্রিভিউ মিলিয়ে আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এটি হলিউড ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রিভিউ আয়ের নতুন রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর দখলে, যার প্রিভিউ আয় ছিল ৬ কোটি ডলার। পাশাপাশি জরিপ প্রতিষ্ঠান পোস্টট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ দর্শক, শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও ছবিটি সর্বোচ্চ পাঁচ তারকা রেটিং পেয়েছে।
‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্যের মধ্যেও অন্য ছবিগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ তৃতীয় সপ্তাহান্তেও শক্তিশালী আয় ধরে রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি এই সপ্তাহান্তে আরও প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করবে। এতে উত্তর আমেরিকায় এর মোট আয় ৪০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। তবে নতুন স্পাইডার-ম্যানের ঝড়ে অন্যান্য ছবির আয়ে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নয়, পুরো উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসও নতুন ইতিহাস গড়তে পারে। সপ্তাহান্তে সব সিনেমা মিলিয়ে মোট আয় ৪০৭ থেকে ৪১২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০১৯ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির সময় গড়া সম্মিলিত আয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, নতুন সিনেমার গল্প শুরু হয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর চার বছর পর। এতে আবারও পিটার পার্কারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড, এমজে চরিত্রে ফিরেছেন জেনডায়া এবং নতুন প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখা গেছে স্যাডি সিঙ্ককে।















