রইদে তুষির সাদুর বউ চরিত্রটি শুধু একটি অভিনয় নয়, বরং অভিনেত্রী নাজিফা তুষির জন্য গভীর এক অভিজ্ঞতার নাম। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমাটিতে নামহীন এই নারী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় মিশে থাকার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে সম্প্রতি আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তুষি। তার সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে সাদুর বউ চরিত্রের পেছনের গল্প।
রইদ সিনেমাটি ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনায় রয়েছে। সিনেমায় তুষির চরিত্রের কোনো ব্যক্তিগত নাম নেই, তিনি পরিচিত সাদুর বউ হিসেবে। এর আগে চরিত্রটি নিয়ে প্রস্তুতির সময়ও তুষি জানিয়েছিলেন, এই ভূমিকায় নিজেকে বদলে ফেলতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এমনকি চরিত্রের আবহ ধরে রাখতে তিনি বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসেও পরিবর্তন এনেছিলেন।
রইদে তুষির সাদুর বউ হয়ে ওঠার পেছনে নির্মাতা ও অভিনয় দলের পাশাপাশি শুটিং এলাকার সাধারণ মানুষের অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তিনি নিজেই যেন সেই এলাকার একজন হয়ে গিয়েছিলেন। শুটিংয়ের কোনো দৃশ্যে পাগলী চরিত্রটিকে মারধর করার প্রয়োজন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সহজভাবে নিতেন না। তারা পরিচালকের সঙ্গে পর্যন্ত তর্ক করতেন, যাতে ওই চরিত্রকে আঘাত করা না হয়। এই আন্তরিকতা তুষির কাছে শুটিংয়ের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পাওয়ার চেয়েও মানুষের ভালোবাসাকে বেশি মূল্য দেন তুষি। তার কাছে দর্শকের ভালোবাসা এমন এক প্রাপ্তি, যা বড় কোনো পুরস্কারের অনুভূতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগে মানুষ তাকে অভিনেত্রী হিসেবে চিনত, কিন্তু এখন অনেকেই তার অভিনীত চরিত্র নিয়ে কথা বলেন এবং কাছে এসে হাত ধরতে চান। এই পরিবর্তনই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। রইদে তার অভিনয় নিয়ে দর্শকের এমন উচ্ছ্বাসের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুরুতে সাদুর বউ চরিত্রটি ধারণ করা নিয়ে তুষির মধ্যে ভয় ও দ্বিধা কাজ করেছিল। চরিত্রটির আচরণ, জীবনযাপন ও মানসিক অবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কাজ শেষ করার পর তার উপলব্ধি বদলে যায়। তার মনে হয়েছে, চরিত্রটির কিছু অনুভূতি শুধু সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের ভেতর, মা এবং আশপাশের পরিচিত মানুষের মধ্যেও তিনি সেই মানবিক বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন। প্রকৃতি ও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় সার্থকতা হিসেবে দেখেছেন। চরিত্রটির জন্য তুষির দীর্ঘ প্রস্তুতির কথাও আগে প্রকাশ্যে এসেছে।
সবশেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাজিফা তুষি। নিজের অনুভূতিগুলো সবসময় গুছিয়ে প্রকাশ করতে না পারলেও দর্শকের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ভালোবাসা যেন দীর্ঘদিন একইভাবে অটুট থাকে, সেটিই তার প্রত্যাশা। এদিকে রইদ মুক্তির পর তুষির অভিনয় নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে এবং সিনেমাটিও দেশের বাইরে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। ফলে সাদুর বউ চরিত্রটি এখন তার অভিনয়জীবনের অন্যতম আলোচিত কাজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
























