ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত বেড়ে ২০

কিয়েভে রুশ হামলার পর উদ্ধার অভিযান চলছে।

রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত ২০। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বহু ভবন, আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মেয়র ক্লিচকো বলেন, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমে সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকশ উদ্ধারকর্মী, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং চিকিৎসাকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন। অনেক আহতকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যদিও ইউক্রেনে এর আগে আরও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এবারের হামলায় রাজধানীজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, হামলায় আবাসিক ভবন, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভসহ বড় শহরগুলোতে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানালেও যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টে একদিনে ২ হাজার ৪১১ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি, বিশেষ কার্যক্রমে দ্রুত বিচার

রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত বেড়ে ২০

Update Time : ০৯:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত ২০। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বহু ভবন, আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা

মেয়র ক্লিচকো বলেন, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমে সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকশ উদ্ধারকর্মী, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং চিকিৎসাকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন। অনেক আহতকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  লিবিয়া উপকূলে ১৫ মরদেহ ভেসে এল মর্মান্তিক নৌকাডুবির পর

যদিও ইউক্রেনে এর আগে আরও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এবারের হামলায় রাজধানীজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ: নতুন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, হামলায় আবাসিক ভবন, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভসহ বড় শহরগুলোতে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানালেও যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।