ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটির পূর্বাঞ্চল। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ফ্লোরেস অঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটির মাত্রা ছিল ৬.১।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাবে দুজন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে মাউমেরে এলাকায়। সেখানে একটি টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের অংশ ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে একটি জাহাজে ওঠানামার পথও ধসে যায়। এতে কয়েকজন সাগরে পড়ে যান। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি কিছু এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা এখনও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি এলাকায় আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ দেখা যায়। এবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে, কারণ দুর্গম কয়েকটি এলাকায় উদ্ধারকারী দল এখনও পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে।


























