বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। Henley Passport Index 2026-এর সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিং অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় প্রবেশ করতে পারবেন। সোমবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত সূচকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখল দেশটি।
শীর্ষে সিঙ্গাপুর, দ্বিতীয় স্থানে তিন দেশ
সর্বশেষ সূচকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) তিন ধাপ এগিয়ে উঠে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই তিন দেশের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত ১৮৭টি গন্তব্য।
ইউরোপীয় দেশগুলোর শক্ত অবস্থান
চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে রয়েছে ১১টি ইউরোপীয় দেশ। এগুলো হলো—
- বেলজিয়াম
- ডেনমার্ক
- ফিনল্যান্ড
- ফ্রান্স
- জার্মানি
- আয়ারল্যান্ড
- ইতালি
- লুক্সেমবার্গ
- নেদারল্যান্ডস
- নরওয়ে
- স্পেন
এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
মালয়েশিয়া এশিয়ার শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর একটি
সপ্তম স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া। একই অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডাসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।
তালিকার একেবারে নিচে আফগানিস্তান
র্যাংকিংয়ের সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির পাসপোর্টধারীরা মাত্র ২২টি দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।
এর ফলে শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানের মধ্যে ভ্রমণ সুবিধার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭০টি গন্তব্যে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
গত ২০ বছরে বেড়েছে বৈশ্বিক ভ্রমণ স্বাধীনতা
Henley & Partners জানিয়েছে, ২০০৬ সালে যখন এই সূচক চালু হয়, তখন গড়ে একটি পাসপোর্ট দিয়ে মাত্র ৫৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১০৮টি গন্তব্যে পৌঁছেছে।
২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের পাসপোর্ট ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। তখন তাদের নাগরিকরা ১৩০টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ করতে পারতেন।
শান্তিপূর্ণ দেশের পাসপোর্টও তুলনামূলক শক্তিশালী
Henley Passport Index এবং Global Peace Index তুলনা করে দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর পাসপোর্টও সাধারণত শক্তিশালী।
সিঙ্গাপুর, জাপান, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও মালয়েশিয়া—সবগুলো দেশই উভয় সূচকে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টধারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
পাসপোর্ট শক্তির পেছনে কী কাজ করে?
Henley & Partners-এর চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান এইচ. কেলিন বলেন, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা শান্তিপূর্ণ অবস্থার প্রতিফলন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন।
তার ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টগুলো এমন দেশগুলোর, যাদের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রগুলো অংশীদার হতে আগ্রহী।
Henley Passport Index কী?
Henley Passport Index বছরে দুইবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের শক্তিমত্তা মূল্যায়ন করে। এই সূচকে দেখা হয়, একটি দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় বিশ্বের কতটি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।



























