ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা, ইরানের কড়া জবাব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৫

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা | ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করার পর শিগগিরই কৌশলগত এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর পরপরই তেহরান থেকে আসে কঠোর প্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি জোরালো অবস্থান জানিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে বা এর আইনি ভিত্তি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানেরই থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য তেহরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়। আরাগচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় আবারও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও ইসলামাবাদ সমঝোতায় আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা ছিল বলে আলজাজিরার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে মূল বিরোধ শুধু জাহাজ চলাচল বা সামরিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে আপাতত সমঝোতার চেয়ে পাল্টাপাল্টি চাপের চিত্রই বেশি স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার বক্তব্য যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, তেমনি ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছে যে তেহরান সহজে পিছু হটতে রাজি নয়। এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের পাল্টা অবস্থানের দিকে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা, ইরানের কড়া জবাব

Update Time : ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করার পর শিগগিরই কৌশলগত এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর পরপরই তেহরান থেকে আসে কঠোর প্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি জোরালো অবস্থান জানিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে বা এর আইনি ভিত্তি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

আরও পড়ুন  ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাতে বাড়ল যুদ্ধের আশঙ্কা

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানেরই থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য তেহরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  ‘এটি সম্পূর্ণ মনগড়া’— ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়। আরাগচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় আবারও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও ইসলামাবাদ সমঝোতায় আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা ছিল বলে আলজাজিরার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে মূল বিরোধ শুধু জাহাজ চলাচল বা সামরিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে আপাতত সমঝোতার চেয়ে পাল্টাপাল্টি চাপের চিত্রই বেশি স্পষ্ট।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধের খরচে চাপে পেন্টাগন, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের দাবি

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার বক্তব্য যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, তেমনি ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছে যে তেহরান সহজে পিছু হটতে রাজি নয়। এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের পাল্টা অবস্থানের দিকে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।