ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা Logo প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে: উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিক Logo স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা Logo বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন Logo বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল, জার্মানিকে টপকে শীর্ষে গোলদাতা দল Logo বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি Logo বিশ্বকাপে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ তেহরান Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন রুখে দিল বিজিবি, আটক ২০ জন Logo Gen Z-এর নতুন ডেটিং স্টাইল: কম খরচে বেশি কানেকশন

‘এটি সম্পূর্ণ মনগড়া’— ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৫১৯

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের পর প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে ঘিরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অনুরোধ করেছিলেন। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘বানানো গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা যায়। সম্মেলনের পর মেলোনি বলেছিলেন, তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের তিক্ততা নেই। কিন্তু কয়েকদিন পরই ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

একটি ইতালীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুশি হয়েছিলেন। এই মন্তব্য দ্রুত ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

প্রতিক্রিয়ায় ইনস্টাগ্রামে মেলোনি জানান, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত এবং হতাশ। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।

মেলোনির অভিযোগ, ট্রাম্প মিত্রদের প্রতি কঠোর হলেও প্রতিপক্ষদের প্রতি অনেক বেশি নমনীয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করে না এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।

এই ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি, তবে ইতালির গণমাধ্যম এটিকে চলমান বিরোধের প্রভাব হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধের মূল কারণ ইরান ইস্যু। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন মেলোনি। এর আগেও ট্রাম্প তার সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন মেলোনির যথেষ্ট সাহস আছে, কিন্তু পরে বুঝেছেন তিনি ভুল ছিলেন।

একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের কারণে দুই নেতার সম্পর্কের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা থেকে শুরু করে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারাও মেলোনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিরোধ শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আগের তুলনায় আরও স্বাধীন ও দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা

‘এটি সম্পূর্ণ মনগড়া’— ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

Update Time : ১১:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে ঘিরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অনুরোধ করেছিলেন। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘বানানো গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা যায়। সম্মেলনের পর মেলোনি বলেছিলেন, তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের তিক্ততা নেই। কিন্তু কয়েকদিন পরই ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

একটি ইতালীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুশি হয়েছিলেন। এই মন্তব্য দ্রুত ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রনালী নিয়ে কঠোর বার্তা আইআরজিসির: ‘পুরনো পরিস্থিতি আর ফিরবে না’

প্রতিক্রিয়ায় ইনস্টাগ্রামে মেলোনি জানান, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত এবং হতাশ। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।

মেলোনির অভিযোগ, ট্রাম্প মিত্রদের প্রতি কঠোর হলেও প্রতিপক্ষদের প্রতি অনেক বেশি নমনীয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করে না এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।

আরও পড়ুন  মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত

এই ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি, তবে ইতালির গণমাধ্যম এটিকে চলমান বিরোধের প্রভাব হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধের মূল কারণ ইরান ইস্যু। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন মেলোনি। এর আগেও ট্রাম্প তার সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন মেলোনির যথেষ্ট সাহস আছে, কিন্তু পরে বুঝেছেন তিনি ভুল ছিলেন।

একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের কারণে দুই নেতার সম্পর্কের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি দামের প্রভাব, বাসভাড়া সমন্বয়ে বৈঠক; সিদ্ধান্ত আসছে সোমবার

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা থেকে শুরু করে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারাও মেলোনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিরোধ শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আগের তুলনায় আরও স্বাধীন ও দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।