সালমান খান কারাগারের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা। সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে তিনি জানান, জীবনের বিভিন্ন সময়ে আইনি জটিলতার কারণে তাঁকে কয়েকবার জেল ও পুলিশ হেফাজতে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনা এবং জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছিল।
সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শোতে ছোট ভাই সোহেল খানকে উৎসাহ দিতে হাজির হন সালমান খান। অনুষ্ঠানে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি নিজের জেলজীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন। অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলার কারণে তাঁকে চারবার জেল বা পুলিশ হেফাজতে থাকতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় প্রথমবার তাঁকে কারাগারে যেতে হয়।
সালমান জানান, কারাগারের জীবন তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে সেখানকার বাথরুমের পরিবেশ তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়টির কথা উল্লেখ করেছিলেন। বন্দী জীবনের সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন বাস্তবতা তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
অভিনেতার মতে, কারাবাসের সেই সময়টিই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় মানসিক পরিবর্তনের কারণ। তিনি বলেন, একপর্যায়ে অভিনয়জীবনের ব্যস্ততা এবং আলোঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন বেছে নেওয়ার চিন্তা মাথায় আসে। তাঁর মনে হয়েছিল, সবকিছু ছেড়ে নিরিবিলি কোথাও কৃষিকাজ করে সাধারণ জীবন কাটানোই হয়তো বেশি শান্তির হবে।
যদিও সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি, তবে সালমানের কথায় স্পষ্ট, কঠিন সময় মানুষকে নতুনভাবে জীবনকে মূল্যায়ন করতে শেখায়। তিনি মনে করেন, প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও শক্তিশালী করে এবং জীবনের অগ্রাধিকার বদলে দিতে পারে। ব্যক্তিগত সংগ্রামের সেই অধ্যায়ই তাঁকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।
বর্তমানে সালমান খান আবারও অভিনয় ও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সক্রিয় রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি ভক্তদের সামনে তাঁর জীবনের এক ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। পর্দার তারকা পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষের মানসিক লড়াই এবং কঠিন অভিজ্ঞতার গল্পও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই যেন মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
























