লায়ন সিনেমা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। বাংলাদেশের নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিকল্পিত এই সিনেমায় আর অভিনয় করছেন না কলকাতার অভিনেতা জিৎ। প্রায় দুই বছর আগে ছবিটির ঘোষণা ঘিরে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার পর থেকে সিনেমাটির শুটিং বা নির্মাণের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এবার নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করে জিৎ জানিয়েছেন, সিনেমাটি আর তাঁর করা হচ্ছে না।
লায়ন সিনেমার ঘোষণা এসেছিল ২০২৪ সালে জিতের জন্মদিন উপলক্ষে। ভারতীয় প্রযোজক শ্যামসুন্দর দে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির খবর নিশ্চিত করেছিলেন। রায়হান রাফীর পরিচালনায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। ছবিতে জিতের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিনেতা শরিফুল রাজের অভিনয়ের কথাও জানিয়েছিলেন নির্মাতা। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শুটিং শুরু হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরেই সিনেমাটি আপাতত হচ্ছে না বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এবার লায়ন সিনেমা নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে জিৎ বলেছেন, ছবিটি আর হচ্ছে না। অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যে প্রযোজককে কেন্দ্র করে সিনেমাটির পরিকল্পনা এগোচ্ছিল, তিনি বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতিও সিনেমাটির কাজ থেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জিৎ। তাঁর মতে, কোনো প্রকল্প একবার দীর্ঘ সময়ের জন্য থেমে গেলে সেটিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
জিৎ আরও জানিয়েছেন, সিনেমাটি নতুন করে শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রায়হান রাফী। তবে এবার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি অভিনেতা। নির্মাতাকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে লায়ন সিনেমার কাজ আবার শুরু হলেও জিৎকে এতে দেখা যাবে না। তাঁর এই বক্তব্যের ফলে ছবিটি নিয়ে এতদিনের অনিশ্চয়তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে সিনেমাটির নতুন পরিকল্পনা বা অন্য কোনো অভিনেতাকে যুক্ত করার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
লায়ন সিনেমাকে ঘিরে শুরু থেকেই দুই বাংলার দর্শকদের আগ্রহ ছিল বেশ বড়। রায়হান রাফী বাংলাদেশের আলোচিত নির্মাতাদের একজন। অন্যদিকে জিৎ কলকাতার বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত মুখ। দুই পক্ষের এই সমন্বয় এবং বাংলাদেশের অভিনেতা শরিফুল রাজের উপস্থিতির কারণে ছবিটি ঘোষণার পর থেকেই আলোচনায় ছিল। যৌথ প্রযোজনার এই প্রকল্পে বাংলাদেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও যুক্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
জিৎ সরাসরি সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেও লায়ন সিনেমা নিয়ে রায়হান রাফীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ছবিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। জিৎ ছাড়া সিনেমাটি নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা হবে কি না, নাকি প্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জিতের এই সিদ্ধান্ত দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তনের খবর।





























