ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসের বিস্ফোরক দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন দাবি | ছবি: সংগৃহীত

চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন শুল্ক এড়াতে চীনকে ৪০টির বেশি দেশ সহায়তা করেছে। এসব দেশের মধ্য দিয়ে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি চীন থেকে পণ্য পাঠানোর তুলনায় কম হারে শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা।

হোয়াইট হাউসের তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় অর্থনীতির দেশও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর এই প্রক্রিয়ায় চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের শুল্ক এড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছেন, এতে মার্কিন কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ওয়াশিংটনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর শুল্ক আরোপ এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করছে। তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একতরফা পদক্ষেপ যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে বেইজিং।

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বিলিয়ন থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’। অর্থাৎ পণ্য সরাসরি চূড়ান্ত বাজারে না গিয়ে মাঝপথে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, চীন শুধু তৃতীয় দেশকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেনি, পণ্যের মোড়ক ও কাগজপত্র পরিবর্তনের মাধ্যমেও প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করেছে। এর ফলে চীনা পণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পদ্ধতিকে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে সব ধরনের তৃতীয়-দেশীয় বাণিজ্যকে অবৈধ বলা যায় না।

চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্যের উৎপত্তি, বাণিজ্যপথ ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক বাণিজ্যপ্রবাহ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লির মতে, এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

চ্যাং পাও লি আরও মনে করেন, ভবিষ্যতে বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি হলে শুধু সরাসরি চীনা রপ্তানির বিষয় নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে তাঁর মতে, বাণিজ্যপথ পরিবর্তনের সবটাই যে শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া, নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠনের কারণেও বাণিজ্যের গতিপথ বদলাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত দেশগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ হলে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও সরবরাহব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ শুধু ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর বেশির ভাগ শুল্ক স্থগিত করা হলেও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর জবাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

এর মধ্যেই কয়েক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। ফলে নতুন এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসের এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটন যেখানে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য পাঠানোকে শুল্ক এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে, বেইজিং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্যনীতি নিয়ে আপত্তি তুলছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ট্রাম্প-সি বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসের বিস্ফোরক দাবি

Update Time : ০৭:০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন শুল্ক এড়াতে চীনকে ৪০টির বেশি দেশ সহায়তা করেছে। এসব দেশের মধ্য দিয়ে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি চীন থেকে পণ্য পাঠানোর তুলনায় কম হারে শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা।

হোয়াইট হাউসের তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় অর্থনীতির দেশও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর এই প্রক্রিয়ায় চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের শুল্ক এড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছেন, এতে মার্কিন কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ওয়াশিংটনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর শুল্ক আরোপ এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করছে। তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একতরফা পদক্ষেপ যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে বেইজিং।

আরও পড়ুন  শুল্কে চাপ: বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বিলিয়ন থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’। অর্থাৎ পণ্য সরাসরি চূড়ান্ত বাজারে না গিয়ে মাঝপথে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, চীন শুধু তৃতীয় দেশকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেনি, পণ্যের মোড়ক ও কাগজপত্র পরিবর্তনের মাধ্যমেও প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করেছে। এর ফলে চীনা পণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পদ্ধতিকে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে সব ধরনের তৃতীয়-দেশীয় বাণিজ্যকে অবৈধ বলা যায় না।

চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্যের উৎপত্তি, বাণিজ্যপথ ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক বাণিজ্যপ্রবাহ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লির মতে, এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আরও পড়ুন  বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক: টেকসই উন্নয়নে ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার

চ্যাং পাও লি আরও মনে করেন, ভবিষ্যতে বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি হলে শুধু সরাসরি চীনা রপ্তানির বিষয় নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে তাঁর মতে, বাণিজ্যপথ পরিবর্তনের সবটাই যে শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া, নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠনের কারণেও বাণিজ্যের গতিপথ বদলাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত দেশগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ হলে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও সরবরাহব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ শুধু ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর বেশির ভাগ শুল্ক স্থগিত করা হলেও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর জবাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

আরও পড়ুন  যশোর বিমানবন্দরে কেন একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে?

এর মধ্যেই কয়েক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। ফলে নতুন এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে চীনের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসের এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটন যেখানে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য পাঠানোকে শুল্ক এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে, বেইজিং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্যনীতি নিয়ে আপত্তি তুলছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ট্রাম্প-সি বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।