ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজার তথ্যচিত্র: অস্কারে সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী নির্বাচন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ তথ্যচিত্রের দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত

গাজার তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’কে ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে বেঁচে থাকা গাজার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এই সিনেমার মূল বিষয়। চলচ্চিত্রটিতে ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি, স্বজন হারানোর কষ্ট এবং নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার সংগ্রামকে সামনে আনা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং যুদ্ধের মানবিক মূল্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

গাজার তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন জেনেভাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ। প্রচলিত তথ্যচিত্রের মতো এখানে কোনো নির্দিষ্ট ধারাবর্ণনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং গাজার যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের নিজেদের কণ্ঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেরাই জানিয়েছেন কীভাবে সংঘাত তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার, পরিচিত পরিবেশ এবং স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছে। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে গাজার মানুষের সংকটকে আরও সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। যুদ্ধের পরিসংখ্যান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে নির্মাতা মানুষের ব্যক্তিগত গল্পকে কেন্দ্রে রেখেছেন। প্রিয়জন হারানোর শোক, নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার যন্ত্রণা এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচিত জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে শেকড়, পরিচয় ও বেঁচে থাকার প্রশ্নও চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে গাজার তথ্যচিত্রটি দর্শকের কাছে একটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল অফিস অব কালচারের বিবৃতিতেও চলচ্চিত্রটির মানবিক দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্মাতা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, বাস্তুচ্যুতি এবং শেকড় ও পরিচয়ের অনুসন্ধানের মতো বিষয় তুলে ধরেছেন। চলচ্চিত্রটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের মর্যাদাপূর্ণ সোলোথার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এটি ‘প্রিক্স দ্য সোলৌর’ পুরস্কার অর্জন করে। এই স্বীকৃতি অস্কারের দৌড়ে ছবিটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জায়গা করে নিতে এখনো কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে ছবিটিকে। একাডেমি ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করবে। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে পাঁচটি চলচ্চিত্র মনোনয়ন পাবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। ফলে সুইজারল্যান্ডের নির্বাচিত এই চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত অস্কারের মূল প্রতিযোগিতায় কতটা এগোতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

গাজার তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ অস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের মানবিক গল্প আবারও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আলোচনায় উঠে এসেছে। গাজার মানুষের জীবনকে তাদের নিজেদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরাই এই সিনেমার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের স্বপ্ন, পরিচয় এবং টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষাকেও এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে চলচ্চিত্রটি আরও বড় আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। আর সেই জায়গা থেকেই গাজার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজার তথ্যচিত্র: অস্কারে সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী নির্বাচন

Update Time : ১০:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

গাজার তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’কে ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে বেঁচে থাকা গাজার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এই সিনেমার মূল বিষয়। চলচ্চিত্রটিতে ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি, স্বজন হারানোর কষ্ট এবং নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার সংগ্রামকে সামনে আনা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং যুদ্ধের মানবিক মূল্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

গাজার তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন জেনেভাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ। প্রচলিত তথ্যচিত্রের মতো এখানে কোনো নির্দিষ্ট ধারাবর্ণনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং গাজার যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের নিজেদের কণ্ঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেরাই জানিয়েছেন কীভাবে সংঘাত তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার, পরিচিত পরিবেশ এবং স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছে। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে গাজার মানুষের সংকটকে আরও সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন  রেড লায়ন ভাস্কর্য মেরামতের দাবি, হারিয়েছে ঐতিহাসিক লেজ

চলচ্চিত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। যুদ্ধের পরিসংখ্যান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে নির্মাতা মানুষের ব্যক্তিগত গল্পকে কেন্দ্রে রেখেছেন। প্রিয়জন হারানোর শোক, নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার যন্ত্রণা এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচিত জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে শেকড়, পরিচয় ও বেঁচে থাকার প্রশ্নও চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে গাজার তথ্যচিত্রটি দর্শকের কাছে একটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল অফিস অব কালচারের বিবৃতিতেও চলচ্চিত্রটির মানবিক দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্মাতা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, বাস্তুচ্যুতি এবং শেকড় ও পরিচয়ের অনুসন্ধানের মতো বিষয় তুলে ধরেছেন। চলচ্চিত্রটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের মর্যাদাপূর্ণ সোলোথার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এটি ‘প্রিক্স দ্য সোলৌর’ পুরস্কার অর্জন করে। এই স্বীকৃতি অস্কারের দৌড়ে ছবিটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪

অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জায়গা করে নিতে এখনো কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে ছবিটিকে। একাডেমি ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করবে। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে পাঁচটি চলচ্চিত্র মনোনয়ন পাবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। ফলে সুইজারল্যান্ডের নির্বাচিত এই চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত অস্কারের মূল প্রতিযোগিতায় কতটা এগোতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আরও পড়ুন  ইরানের বিস্ফোরক হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা, বিশ্ববাজারে নতুন শঙ্কা

গাজার তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ অস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের মানবিক গল্প আবারও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আলোচনায় উঠে এসেছে। গাজার মানুষের জীবনকে তাদের নিজেদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরাই এই সিনেমার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের স্বপ্ন, পরিচয় এবং টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষাকেও এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে চলচ্চিত্রটি আরও বড় আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। আর সেই জায়গা থেকেই গাজার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।