ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি তে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি তে একটি শক্তিশালী টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত রাশিয়ার এই কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় রুশ বাহিনীর দূরপাল্লার বিমান অভিযানের সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সার্বভৌম দেশ ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে চালানো রুশ আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে প্রতিনিয়ত আরও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই দুঃসাহসিক দূরপাল্লার অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া সব বীর সেনানিদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ দাবি করেছে, সফল ড্রোন হামলায় রুশ টু-৯৫ বোমারু বিমানটি এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিখুঁত আঘাতে বিমানটির লেজের অংশ মূল কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংস হওয়া এই বিশালাকার বিমানটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নিত। তাদের মতে, প্রতিটি কৌশলগত বিমান ধ্বংসের অর্থ হলো ভবিষ্যতে কয়েক ডজন ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা। একই সাথে এর মাধ্যমে পুতিনের কোটি কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

রুশ হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করলেও ১৬ জুলাই রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই সামরিক ঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়। এসবিইউ আরও দাবি করেছে, এই অভিযানের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে রাশিয়ার বিমানবাহিনী এখন আর নিজেদের দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী নিরাপদ সামরিক ঘাঁটিতেও সুরক্ষিত নয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’-এর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ৪টি ভিন্ন ঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়ে ৮টি টু-৯৫এমএস বোমারু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল। সেই দেড় বছর ধরে সুপরিকল্পিত অভিযানে এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছিল, যা রাশিয়ার বিমান বহরের সামগ্রিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা প্রায় ৩৪ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

Update Time : ০৭:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি তে একটি শক্তিশালী টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত রাশিয়ার এই কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় রুশ বাহিনীর দূরপাল্লার বিমান অভিযানের সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সার্বভৌম দেশ ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে চালানো রুশ আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে প্রতিনিয়ত আরও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই দুঃসাহসিক দূরপাল্লার অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া সব বীর সেনানিদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন  ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শুরু

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ দাবি করেছে, সফল ড্রোন হামলায় রুশ টু-৯৫ বোমারু বিমানটি এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিখুঁত আঘাতে বিমানটির লেজের অংশ মূল কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংস হওয়া এই বিশালাকার বিমানটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নিত। তাদের মতে, প্রতিটি কৌশলগত বিমান ধ্বংসের অর্থ হলো ভবিষ্যতে কয়েক ডজন ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা। একই সাথে এর মাধ্যমে পুতিনের কোটি কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন  সোনার দাম কমল: আজ ভরি প্রতি কত টাকা জানুন

রুশ হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করলেও ১৬ জুলাই রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই সামরিক ঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়। এসবিইউ আরও দাবি করেছে, এই অভিযানের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে রাশিয়ার বিমানবাহিনী এখন আর নিজেদের দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী নিরাপদ সামরিক ঘাঁটিতেও সুরক্ষিত নয়।

আরও পড়ুন  ভূমিকম্পে সন্তানকে বাঁচাতে নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’-এর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ৪টি ভিন্ন ঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়ে ৮টি টু-৯৫এমএস বোমারু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল। সেই দেড় বছর ধরে সুপরিকল্পিত অভিযানে এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছিল, যা রাশিয়ার বিমান বহরের সামগ্রিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা প্রায় ৩৪ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল।