চাকরিতে পদোন্নতি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস কর্মজীবনে সফলতার একটি বড় কারণ। আবার অনেকে মনে করেন, রাতজাগা মানুষও সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন। তাহলে আসলে কারা এগিয়ে? গবেষণা বলছে, শুধু ঘুম থেকে ওঠার সময় নয়, বরং কর্মদক্ষতা, কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি এবং ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টিভঙ্গিও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভোরে ওঠা কর্মীদের অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে দেখা যায়। কারণ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো প্রচলিত ৯টা থেকে ৫টা কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে। ফলে যারা সকালে দ্রুত অফিসে উপস্থিত হন, তারা অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে বেশি আসেন। আগে অফিসে আসাকে অনেক ব্যবস্থাপক দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও কাজের প্রতি আগ্রহের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।
২০১৪ সালে Journal of Applied Psychology-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, কর্মস্থলে আগে উপস্থিত হওয়া কর্মীদের ব্যবস্থাপকরা তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। যদিও কাজের মান একই থাকে, তবুও দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে ভোরে ওঠা কর্মীরা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কিছুটা পরোক্ষ সুবিধা পেতে পারেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে রাতজাগা কর্মীরা কম দক্ষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রত্যেক মানুষের একটি নিজস্ব জৈবিক সময়সূচি বা ক্রোনোটাইপ রয়েছে। কেউ সকালে বেশি মনোযোগী ও কর্মক্ষম থাকেন, আবার কেউ রাতে বেশি সৃজনশীলভাবে কাজ করতে পারেন। তাই শুধু ঘুমানোর সময়ের ভিত্তিতে একজন কর্মীর দক্ষতা বিচার করা সঠিক নয়।
২০২২ সালে জাপানের ৮ হাজারের বেশি অফিসকর্মীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতজাগার অভ্যাস নিজে থেকে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় না। বরং সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একজন কর্মীকে তার স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দের বিপরীতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ যে সময়ে একজন মানুষ সবচেয়ে ভালো কাজ করতে পারেন, সেই সময়ের সঙ্গে কাজের সময়ের মিল থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যায়। অনেক সকালের মানুষ দিনের শুরুতে নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনায় বেশি দক্ষ হন। আবার অনেক রাতজাগা মানুষ সন্ধ্যা বা রাতে বেশি মনোযোগ দিয়ে সৃজনশীল কাজ করতে পারেন। তাই কর্মীর উৎপাদনশীলতা নির্ভর করে তার কাজের উপযুক্ত সময় ও পরিবেশের ওপর।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান নমনীয় কর্মঘণ্টা ও দূর থেকে কাজের সুযোগ বাড়াচ্ছে। গবেষকদের মতে, কর্মীরা যদি নিজেদের স্বাভাবিক কাজের সময় অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পান, তাহলে ভোরে ওঠা ও রাতজাগা—দুই ধরনের কর্মীরাই সমানভাবে ভালো ফল দিতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত চাকরিতে পদোন্নতি শুধু কখন ঘুম থেকে উঠছেন, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখার ওপরই মূলত নির্ভর করে সফলতা। তাই নিজের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করাই দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার উন্নতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।




























