ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ Logo হেপাটাইটিস: নীরব ভয়াবহ সংকটে বাংলাদেশ Logo গর্বের সাফল্য: বাংলাদেশি গবেষক দলের কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অর্জন Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না Logo অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন Logo গুঁড়া দুধ: স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের পর উদ্ধার অভিযান চলছে। | ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ নিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের সোরোঞ্জ এলাকায় একটি কয়লাখনিতে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পাশাপাশি থাকা দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই অংশে প্রায় ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এখনো আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে সোরোঞ্জের একটি গভীর খনি কমপ্লেক্সে। বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং শ্রমিকরা মাটির অনেক গভীরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীদের প্রায় ৪ হাজার ফুট বা ১ হাজার ২১৯ মিটার গভীরে নেমে কাজ করতে হচ্ছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণের ঘটনায় মিথেন গ্যাসকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খনির ভেতরে জমে থাকা এই দাহ্য গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুটি কাছাকাছি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধস নামে। ফলে শ্রমিকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের সন্ধান করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ধাপে ধাপে অভিযান চালাচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর বেলুচিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। খনির গভীরতা ও ধসের কারণে উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সেখানে থাকা ৩৬ শ্রমিকের মধ্যে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি দুজনের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বেলুচিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সেখানকার খনি নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে খনির ভেতরে গ্যাস জমে যাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, নিরাপদ উদ্ধারপথ ও আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে এমন দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণের এই ঘটনা তাই শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন স্বজন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। গভীর খনিতে কাজ করার কারণে উদ্ধার অভিযানও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা কমাতে খনিতে মিথেন গ্যাস শনাক্তকরণ, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪

Update Time : ০৫:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ নিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের সোরোঞ্জ এলাকায় একটি কয়লাখনিতে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পাশাপাশি থাকা দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই অংশে প্রায় ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এখনো আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে সোরোঞ্জের একটি গভীর খনি কমপ্লেক্সে। বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং শ্রমিকরা মাটির অনেক গভীরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীদের প্রায় ৪ হাজার ফুট বা ১ হাজার ২১৯ মিটার গভীরে নেমে কাজ করতে হচ্ছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  রামমন্দিরে অর্থ কেলেঙ্কারি, মোদি-যোগী দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্ন

পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণের ঘটনায় মিথেন গ্যাসকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খনির ভেতরে জমে থাকা এই দাহ্য গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুটি কাছাকাছি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধস নামে। ফলে শ্রমিকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের সন্ধান করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ধাপে ধাপে অভিযান চালাচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর বেলুচিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। খনির গভীরতা ও ধসের কারণে উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সেখানে থাকা ৩৬ শ্রমিকের মধ্যে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি দুজনের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  কাতারের সাবেক আমির আর নেই

বেলুচিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সেখানকার খনি নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে খনির ভেতরে গ্যাস জমে যাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, নিরাপদ উদ্ধারপথ ও আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে এমন দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণের এই ঘটনা তাই শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন  বেইজিংয়ের আকাশে কী ঘটেছিল? উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার রহস্য ঘনীভূত

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন স্বজন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। গভীর খনিতে কাজ করার কারণে উদ্ধার অভিযানও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা কমাতে খনিতে মিথেন গ্যাস শনাক্তকরণ, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।